বিদ্রোহ দমনের নামে ১৯৭৭ সালে এক হাজার ১৫৬ জনকে হত্যার ঘটনায় জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচার ও সংসদ ভবন এলাকা থেকে তার কবর অপসারণের দাবি জানিয়েছেন হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও সেনাবাহিনীর পরিবারের সদস্যরা। বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রংপুর টাউন হল মাঠে ‘মায়ের কান্না’ নামের একটি সংগঠন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ১৯৭৭ সালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সার্জেন্ট সাইদুর রহমান মিঞার ছেলে মো. কামরুজ্জামান মিঞা লেলিন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এসময় মায়ের কান্না সংগঠনের আরও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, ১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবর ঢাকায় জাপানি বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনায় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পরিকল্পিতভাবে একটি অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তৈরি করেন। পরবর্তীসময়ে তথাকথিত বিদ্রোহ দমনের নামে জিয়াউর রহমান একদিনের সামরিক আদালতে বিচার করে সেই রাতেই ফাঁসি সম্পন্ন করতেন নিরপরাধ সামরিক সদস্যদের। রাতের আঁধারে কারফিউ দিয়ে ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, রংপুর, যশোর ও বগুড়া কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসি কার্যকর করা হতো।
জিয়াউর রহমানের আমলে গুম হওয়া ব্যক্তিদের কোথায় সমাহিত করা হয়েছে তা জানতে এবং সেই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে মায়ের কান্না সংগঠনের পক্ষ থেকে সাত দফা দাবি জানানো হয়। সামরিক আদালতে ফাঁসির ঘটনায় বিমান বাহিনীর নিহত সদস্যদের নির্দোষ ঘোষণা, তাদের সঠিক তালিকা প্রকাশ এবং জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচার দাবি করা হয়। একই দাবিতে শুক্রবার (২২ সেপ্টেম্বর) রংপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে মায়ের কান্না সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি আলোচনা সভা এবং প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। ওই অনুষ্ঠানে বিএনপি-জামায়াতের অগ্নিসন্ত্রাসে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি এবং নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা যোগ দেবেন।
সংবাদ সম্মলেনের আগে রংপুর টাউন হল মাঠে একটি আলোকচিত্র প্রর্দশনীর আয়োজন করা হয়। প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন রংপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোসাদ্দেক হোসেন বাবলু। প্রদর্শনী চলবে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। শেষ হবে ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলে আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে।
ওইদিন জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে প্রধান অতিথি হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম মোজাম্মেল হক, রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম মোহাম্মদ আহসানুল হক চৌধুরী, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হাসিবুর রশিদ, একুশে পদকপ্রাপ্ত মানবাধিকার কর্মী এস এম আব্রাহাম লিংকন, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও ‘মায়ের কান্না’ সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা নাহিদ এজাহার খান এমপি উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
জিতু কবীর/এসআর/এমএস