খেলাধুলা

সাবিনাদের জন্য বিদেশি কোচ খুঁজছে বাফুফে

গোলাম রব্বানী ছোটনের পদত্যাগের পর ভারপ্রাপ্ত কোচ দিয়েই নারী ফুটবলের ডাগআউট সামলাচ্ছে বাফুফে। মধ্য জুলাইয়ে দুটি ফ্রেন্ডলি ম্যাচ খেলতে ঢাকায় এসেছিল নেপাল জাতীয় ফুটবল দল। ছোটনের সহকারী হিসেবে দীর্ঘ সময় কাজ করা মাহবুবুর রহমান লিটুকে দিয়ে ওই ম্যাচ দুটি চালিয়ে নিয়েছিল বাফুফে।

কাঠমান্ডুতে নেপালকে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়া সাবিনারা ঘরের মাঠে তাদের বিপক্ষে দুই ম্যাচ ১-১ ও গোলশূন্য ড্র করেছে। সিরিজ খুইয়েছে টাইব্রেকারে।

এর পর এশিয়ান গেমসে জাতীয় দলের জন্য কোচ নিয়োগ দেওয়া হয় সাইফুল বারী টিটুকে। জাতীয় পুরুষ দলের সাবেক এই কোচের অধীনে এরই মধ্যে দুটি ম্যাচ খেলেছেন সাবিনারা। এশিয়ান গেমসে প্রথম ম্যাচে জাপানের কাছে ৮-০ ও দ্বিতীয় ম্যাচে ভিয়েতনামের কাছে ৬-১ গোলে হেরেছে। ২৮ সেপ্টেম্বর শেষ ম্যাচ নেপালের বিপক্ষে।

ঘরের মাঠে নেপালের বিপক্ষে ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচের দায়িত্ব পালন করা মাহবুবুর রহমান লিটুর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল অনূর্ধ্ব-১৭ নারী দল। ভিয়েতনামে তিন ম্যাচের তিনটিই হেরেছে বাংলাদেশ। হারের ব্যবধান ছিল ভিয়েতনামের কাছে ২-০, ফিলিপাইনের কাছে ৩-১ ও অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪-০। এ তিনটি হার অপ্রত্যাশিত ছিল না। তবে বাফুফের প্রত্যাশা ছিল মেয়েরা আরেকটু লড়াই করতে পারবে।

এশিয়ান গেমসে প্রথম দুই ম্যাচ দিয়ে ভারপ্রাপ্ত কোচ লিটুকে বিচারের সুযোগ নেই। কারণ, সর্বশেষ বিশ্বকাপ খেলা দুই দলের সঙ্গে বাংলাদেশের বিস্তর যে পার্থক্য, তাতে এমন ফলাফল হওয়াটাই স্বাভাবিক। আসল পরীক্ষাটা হয়ে যাবে শেষ ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে।

চীন থেকে ফেরার পর এক মাসের মধ্যেই সাবিনাদের আন্তর্জাতিক ম্যাচ আছে লেবানের বিপক্ষে। লেবানন গিয়ে ২৬ ও ২৯ অক্টোবর ম্যাচ দুটি খেলবে বাংলাদেশ। সাইফুল বারী টিটুকে এশিয়ান গেমস পর্যন্ত নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তবে তার দায়িত্বকাল এক মাস বাড়ছে। লেবাননের বিপক্ষে দুই ম্যাচেও সাবিনাদের ডাগাউটে টিটু থাকবেন বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন বাফুফে সভাপতি কাজী মো. সালাউদ্দিন।

বাফুফে সারা বছর ৭০ থেকে ৮০ জন মেয়ে নিয়ে যে ক্যাম্প চালিয়ে আসছে, সেখানে প্রধান কোচের দায়িত্বে ছিলেন ছোটন। তার পদত্যাগের পর প্রধান কোচের পদ শূন্য। এই শূন্যস্থান পূরণের জন্য বাফুফে বিদেশি কোচ খুঁজছে।

এরই মধ্যে কয়েকটি বায়োডাটা বাফুফেতে এসেছে। এর মধ্যে ব্রাজিল, স্পেন ও পেরুর তিন জনের বায়োডাটা বাফুফে সভাপতির টেবিলে। তিনি সেগুলো যাচাই করে যোগ্য মনে করলে সহসাই তাদের সঙ্গে ভিডিওকলে কথা বলবেন। তারপর সিদ্ধান্ত নেবেন।

অক্টোবরে লেবাননের বিপক্ষে দুই ম্যাচ শেষ হওয়ার পর একটা লম্বা সময়ে কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ নেই মেয়েদের। এরপর ব্যস্ততা ঘরোয়া ফুটবল নিয়ে। ডিসেম্বরেই লিগ হওয়ার কথা।

মেয়েরা চলে যাবেন যে যার ক্লাবে। অনূর্ধ্ব-১৭ দল ভিয়েতনাম থেকে দেশে ফেরার পর তাদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার মেয়েরা ঘরে ফিরে গেছেন। লেবাননের বিপক্ষে ম্যাচ আছে বলে জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা চীন থেকে ফিরে ক্যাম্পে উঠবেন। ওই দুই ম্যাচের পর কিছুদিন বাফুফের ক্যাম্প বন্ধই থাকবে।

অক্টোবরের পর এ বছর কোন আন্তর্জাতিক ম্যাচ না থাকায় বিদেশি কোচ নিয়োগের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া করছে না বাফুফে। প্রধান কোচ নিয়োগ দেওয়ার পরই আবার পুরোদমে ক্যাম্প চালু হবে।

‘লেবাননের বিপক্ষে ফিফা ফ্রেন্ডলির পর এ বছর যেহেতু মেয়েদের কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ নেই, তাই আমার বিদেশি কোচ সময় নিয়েই বাছাই করবো’-বলছিলেন বাফুফের নারী উইংয়ের চেয়ারপার্সন মাহফুজা আক্তার কিরণ।

নারী ফুটবলের প্রধান কোচ হিসেবে হাই প্রোফাইল একজনকে খুঁজছে বাফুফে। ‘এখন পল স্মলি নেই। পল এবং বর্তমান পুরুষ জাতীয় দলের প্রধান কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার মতো প্রোফাইল সম্পন্ন বিদেশি কোচই আমরা মেয়েদের জন্য নিয়োগ দেবো। প্রধান কোচ নিয়োগ না দিয়ে ক্যাম্প অব্যাহত রেখেও লাভ নেই। তাই আপাতত মেয়েদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। কোচের যে আবেদনগুলো এসেছে সেগুলো দেখবো। কারো আবেদন পছন্দ হলে কথা বলবো। পছন্দ না হলে আরো আবেদন চাইবো। আমরা ভালো কোচই নিয়োগ দেবো’-বলছিলেন বাফুফে সভাপতি।

আরআই/এমএমআর/এএসএম