কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ইতিাহস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুকে ধর্ষণের পর হত্যার প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা ইউনিভার্সিটি মাইম অ্যাকশন। বৃহস্পতিবার সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মূকাভিনেতা মীর লোকমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলায় তনু হত্যার বিচার এবং নারী নির্যাতন প্রতিরোধ বিষয়ক মূকাভিনয় শো প্রদর্শন শেষে এ প্রতিবাদ জানান।মীর লোকমানের সঙ্গে এ সময় একাত্মতা প্রকাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে মীর লোকমানের মূকাভিনয় শো দর্শকদের বিমুগ্ধ করে এবং প্রতিবাদে মুখর করে তোলে।মীর লোকমান বলেন, ‘না বলা কথাগুলো না বলেই হোক বলা’ স্লোগানকে ধারণ করে ২০১১ সালে যাত্রা করে ‘ঢাকা ইউনিভার্সিটি মাইম অ্যাকশন’। এই সংগঠন শুধু মানুষকে মনোরঞ্জন দিতেই যাত্রা করেনি। সমাজের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোও অন্যতম লক্ষ্য। শিল্প চর্চা শুধু মঞ্চে করলে হবে না। মানুষের কাতারে এসে অন্যায়ের প্রতিবাদ জানানোও শিল্পীদের নৈতিক দায়িত্ব।তিনি বলেন, সমাজ আজ অনৈতিকতার কোন পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে তনু হত্যার মধ্যদিয়ে তা প্রমাণিত। তনু হত্যাকাণ্ড রহস্যজনক। সেনানিবাসে তনুর মরদেহ পাওয়া গেছে, এটি খুবই নির্মম, নৃশংস ও মর্মান্তিক। পৃথিবীর সর্বোচ্চ শাস্তিও এর জন্য যথেষ্ট নয়। আমরা দোষীদের কঠোর শাস্তি চাই, বিচার চাই।মীর লোকমান আরো বলেন, “আজ তনু ধর্ষণের শিকার হয়ে মারা গেছে, কাল আমার বোন, আমার বান্ধবী কিংবা আমার স্ত্রী ধর্ষণের শিকার হলেও কারো কিছু বলার থাকবে না বা করার থাকবে না।”তিনি বলেন, সময়ের প্রয়োজনে শিল্পীদের নেমে আসতে হয় রাজপথে। আজকের এই ঘুনে ধরা সমাজকে রক্ষায় এবং পুনর্গঠনে শিল্পীদের দাঁড়াতে হবে। একজন শিল্পী হিসেবে দায় থেকেই বলছি - তনু কোনো বিচ্ছিন্ন নাম নয়। অনেক অসংলগ্নতা, অবিচার আর সামাজিক-রাজনৈতিক অবক্ষয়ের ফল। একজন মানুষ হিসেবে, ভাই হিসেবে, শিল্পী হিসেবে বলছি, প্রতিটি অন্যায় আর অবিচারের বিপরীতে সোচ্চার হওয়া নৈতিক কর্তব্য। বিবেকের তাড়নায় তনু হত্যার প্রতিবাদ নির্বাক ভাষায় জানাতে আজ এখানে দাঁড়িয়েছি।নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো প্রত্যেকটি মানুষের নৈতিক কর্তব্য উল্লেখ করে মীর লোকমান বলেন, “আসুন তীব্র প্রতিবাদ এবং প্রতিরোধ গড়ে তুলি।”এমইচ/আরএস/পিআর