অর্থনীতি

ভিসানীতির প্রভাবে শেয়ারবাজারে আতঙ্ক কাটছেই না

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিষেধাজ্ঞার খবর আসার পর শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে তা কাটছেই না। আতঙ্কে গত সপ্তাহজুড়ে শেয়ারবাজারে দরপতন হওয়র পর চলতি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেই বড় দরপতন হয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়ে গেছে।

শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতির সঙ্গে শেয়ারবাজারের সরাসরি কোনো প্রভাব নেই। এরপরও যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিষেধাজ্ঞার খবর প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। আতঙ্কে অনেকে লোকসানে শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়াচ্ছেন। ফলে বাজারে আতঙ্ক আরও বাড়ছে এবং দরপতন হচ্ছে।

তারা বলছেন, বিনিয়োগকারীরা বিক্রির চাপ কমালে বাজার আপনাআপনিই স্বাভাবিক হয়ে যাবে। কিন্তু কিছু বিনিয়োগকারী অস্বাভাবিক আচরণ করছেন। বাজার একটু ঊর্ধ্বমুখী হলেই এক শ্রেণির বিনিয়োগকারী বিক্রির চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছেন। ফলে ঊর্ধ্বমুখী ধারা বেশি সময় স্থায়ী থাকছে না।

আরও পড়ুন>> ভিসানীতির ‘ভূত’ শেয়ারবাজারে, ব্যাপক অস্থিরতা

গত ২২ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ভিসা নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানানো হয়। এরপর থেকেই শেয়ারবাজারে অস্থিরত চলছে। গণমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার খবর প্রকাশের পর গত সপ্তাহজুড়ে সবকটি মূল্যসূচকের পতন হয়। সেই সঙ্গে কমে লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম। পাশাপাশি বাজার মূলধন দেড় হাজার কোটি টাকার ওপরে কমে যায়।

এ পরিস্থিতিতে রোববার শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়ার মাধ্যমে। এতে লেনদেনের শুরুতে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সবকটি মূল্য সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মেলে।

কিন্তু প্রথম ঘণ্টার লেনদেন শেষ হতেই এক শ্রেণির বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়িয়ে দেন। এতে দাম বাড়ার তালিকা থেকে একের পর এক প্রতিষ্ঠান দাম কমার তালিকায় চলে আসে। ফলে মূল্যসূচকও ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। লেনদেনের সময় গাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিক্রির চাপও বাড়তে থাকে। ফলে সূচকের পতনও বড় হয়।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে মাত্র ৩৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১২০টির এবং ১৪৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অথচ প্রথম ঘণ্টার লেনদেন শতাধিক প্রতিষ্ঠান দাম বাড়ার তালিকায় ছিল।

আরও পড়ুন>> যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বাংলাদেশ চিন্তিত নয়

বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দরপতন হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১৯ পয়েন্ট কমে ৬ হাজার ২৬৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ্ আগের দিনের তুলনায় ২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৩৫৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৪ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৩৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

সবকটি মূল্যসূচক বাড়লেও ডিএসইতে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। দিনভর ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৫৩১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় ৪২২ কোটি ৩০ লাখ টাকা। সে হিসাবে লেনদেন বেড়েছে ১০৯ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

এই লেনদেন বাড়াতে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে সোনালী পেপারের শেয়ার। কোম্পানিটির ৩২ কোটি ৫ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্সের ২৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ১৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স, জেমিনি সি ফুড, ফু-ওয়াং ফুড, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট, অ্যাপেক্স ফুডস, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ এবং বিজিটিবি বন্ড।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ১৯ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৪৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৫টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৭২টির এবং ৫২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ১০ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৫০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।

শেয়ারবাজারের এই পরিস্থিতি সম্পর্কে ডিএসইর এক সদস্য বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিষেধাজ্ঞার খবর আসার পর থেকেই বিনিয়োগাকারীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এতে অনেকে কম দামে শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়াচ্ছে। এই বিক্রির চাপ বাড়ানোর কারণে বাজারে দরপতন হচ্ছে। বিনিয়োগকারীরা বিক্রির চাপ কমালে অটোমেটিক বাজারে গতি ফিরে আসবে।

তিনি বলেন, বাজারে এখন বিক্রির চাপ যত বাড়বে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক তত বাড়বে। এতে বাজারে পতনের প্রবণতাও বাড়তে থাকবে। সুতরাং বাজারকে পতন থেকে বের করে আনতে হলে বিক্রির চাপ কমাতে হবে। বিশেষ করে বড় বিনিয়োগকারী এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বিক্রির চাপ কমলেই বাজার ঘুরে দাঁড়াবে।

এমএএস/ইএ/জিকেএস