শারীরিক প্রতিবন্ধী মো. রাসেল শেখকে উপহার হিসেবে দেওয়া ভ্যান নিজেই চালালেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মোজাম্মেল হক। এ সময় তার যাত্রী ছিলেন প্রতিবন্ধী রাসেল।
সোমবার (২ অক্টোবর) দুপুরে কেএমপির সদর দপ্তরে রাসেলকে ওই ভ্যান প্রদান করেন পুলিশ কমিশনার।
কমিশনার বলেন, খুলনা মেট্রেপলিটন পুলিশ খুলনা মহানগরের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ বিশেষ করে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ দমন, জুয়া ও যৌন ব্যবসাসহ বিভিন্ন ধরনের ফৌজদারি অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। গত ১১ আগস্ট রাসেল নামে এক ব্যক্তির ভ্যান চুরি হয়ে যায়। তার বৃদ্ধ বাবা-মা এবং দুই বোন রয়েছে। সে ৩ বছর যাবৎ ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো। সে একটি এনজিও থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে একটা ভ্যান কেনে। সেই তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি। ভ্যানটি চুরি হওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করে আসছিল।
তিনি বলেন, ভ্যানটি চুরি হওয়ায় রাসেলের পরিবারে দুর্ভোগ নেমে আসে। সে খানজাহান আলী থানা পুলিশকে জানালে ওসি চুরি মামলা রুজু করে ঘটনায় জড়িত একজনকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করে। পরে বিষয়টি আমাকে অবগত করলে ওসি খানজাহান আলীকে প্রাথমিক সহায়তা প্রদান করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজেই নিজেদের নিয়োজিত রাখেনি। মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে রাসেলের পরিবারের প্রতি। তারই অংশ হিসেবে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে অসহায় অবস্থা থেকে উত্তোরণের লক্ষ্যে নতুন ভ্যান উপহার দেওয়া হলো রাসেলকে। একইসঙ্গে তাকে খাদ্য সহায়তাও করা হয়েছে।
তার ভ্যান উদ্ধার হলে সে একটি ভাড়ায় প্রদান করবে এবং অপরটি দিয়ে নিজে উপার্জন করবে।
চুরি হওয়া ভ্যান উদ্ধারের জন্য আমাদের তৎপরতা অব্যাহত আছে। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের এমন মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এঅ্যান্ডও) সরদার রকিবুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. সাজিদ হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক অ্যান্ড প্রটোকল) মোছা. তাসলিমা খাতুন, ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (সদর) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, বিশেষ পুলিশ সুপার (সিটিএসবি) রাশিদা বেগম, ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (এফঅ্যান্ডবি) শেখ মনিরুজ্জামান মিঠু, ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ইঅ্যান্ডডি) মো. কামরুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
আলমগীর হান্নান/এফএ/এমএস