পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, তাদের (যুক্তরাষ্ট্র) ভিসানীতির মূল উদ্দেশ্য আমি যেটা বুঝতে পারি, যাতে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়। আমরাও সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। তারা আমাদের হাতকে শক্ত করার জন্য এই ভিসানীতি করেছে। আমাদের সঙ্গে তারা একমত।
বুধবার (৪ অক্টোবর) বিকেলে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য সফর পরবর্তী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমেরিকাও চায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। সে জন্য তারা সহায়কের ভূমিকা পালন করছেন আর আমাদের সাহায্য করেছে। যারা নির্বাচনে আসবে না, আমেরিকা তাদের পক্ষে নাই। তারা বলেছে তারা কোনো দলেই নাই। আমরা একটা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চাই, আমেরিকাও চায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। কিন্তু তারা বিশ্বাস করে নির্বাচনই সরকার পরিবর্তনের একমাত্র সুযোগ। তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে এবং তারা গণতান্ত্রিক সরকার চায়। আমরাও গণতান্ত্রিক সরকার চাই।
তারা যদি নির্বাচনে সহায়তার কথা বলে থাকে তাহলে এ ধরনের ভিসানীতি ঘোষণা করল কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভিসানীতি-তো সব দেশেই আছে, আমাদের দেশেও আছে। আমরা সবাইকে ভিসা দেই নাকি? আমরা ব্যক্তিবিশেষ বা কোনো দেশকে কম ভিসা দেই। আমাদের একটা ভিসানীতি আছে, তাদেরও একটা ভিসানীতি আছে।
আপস হয়ে গেছে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের এমন মন্তব্য প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা উনাকে জিজ্ঞেস করেন, ভিসানীতি নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথার কারণ নেই। আমরা এতে কোনো চাপ ফিল করি না। উনি (কাদের) ঠিকই বলেছেন। ভিসানীতি ইজ নট ইম্পরট্যান্ট টু আস। ভিসার জন্য যারা অ্যাপ্লাই করেন তাদের জন্য হয় দুঃসংবাদ, যদি দুষ্ট লোক হয়। আমেরিকা তো সবাইকে ভিসা দেয় না। বছরে কয়েক হাজার মানুষ ভিসার আবেদন করেন তারা কয়জনকে ভিসা দেয়?
আরও পড়ুন: যারা স্যাংশনস দেবে বাংলাদেশও তাদের দেবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ইউই নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাবে না। এ বিষয়ে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রী বলেন, আপনি (গণমাধ্যমকর্মী) এত দেউলিয়া কেন? আপনার নিজের প্রতি বিশ্বাস নাই? আপনি দেখেননি নির্বাচন কীভাবে হয়েছে? আপনার কোনো আত্মবিশ্বাস নাই? অনেকে বললো আপনার কান চিলে নিয়ে গেছে। আপনি কানটা ধরে দেখেন চিল নিয়েছে কি না। আপনি বিদেশির মুখাপেক্ষী হয়ে থাকেন কেন? আপনার মন মগজে শুধু বিদেশি কেন? নিজের উপর আত্মবিশ্বাস আপনারা তৈরি করতে পারেন না? ওগুলো বাদ দেন। নিজের উপর আত্মবিশ্বাস নেন। শেখ হাসিনা আত্মবিশ্বাসী, সেজন্যই বিশ্বব্যাংক যখন টাকা দেয় নাই, ওদের পাত্তা দেন নাই। তার নিজের প্রতি ও দেশের প্রতি আত্মবিশ্বাস আছে। আপনারা দেশের প্রতি এবং নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস বাড়ান।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে অনেকের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে। একাধিক মন্ত্রী পর্যায়ের লোকের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে। রোহিঙ্গা নিয়ে আলাপ হয়েছে। মার্কিনিরা আমাদের সঙ্গে একমত যে রোহিঙ্গাদের ফেরত যাওয়া উচিত। কিন্তু তারা মনে করে মিয়ানমারে যদি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত না হয় তাহলে ওদের জীবনমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না। সেজন্য বলেছে আগে ওখানে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হোক, তারপর এদের পাঠান। আর এতদিন তাদের এদেশে রেখে স্কিল ট্রেনিং দিতে পরামর্শ দিয়েছে।
বাংলাদেশের গণতন্ত্র আইসিইউতে আছে, ভারতীয় গণমাধ্যমের এমন প্রতিবেদন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আব্দুল মোমেন বলেন, এরকম বহু লোক আছে বহু রকম প্রতিবেদন দেবে। আপনি আপনার নিজে প্রতিবেদন তৈরি করেন না কেন? আপনি আপনার নিয়ম মতো তৈরি করেন। অন্যের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকবেন না। আল্লাহর ওয়াস্তে এটা বাদ দেন। এই বদ অভ্যাসটা বাদ দেন। অন্য কেউ কিছু বললেই তো লাফাইয়া উঠবেন। এটা বাদ দিয়ে নিজে পরীক্ষা করে দেখেন কী অবস্থা। কেন আপনারা জরিপ করেন না? মানুষ কাকে ভোট দেবে, জনগণ যদি ভোট দেয় সেটাই গ্রহণযোগ্য নির্বাচন।
উজরা জেয়া ও ডোনাল্ড ল্যু’র সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে বহু লোকের সাক্ষাৎ হয়েছে। মাল্টিপল মিটিং হয়েছে। আমেরিকার সঙ্গে, ভারতের সঙ্গে হয়েছে, ইউরোপের সঙ্গে হয়েছে। সবার সঙ্গেই তো হয়েছে। ব্রিটিশদের সাথেও হয়েছে। এখন অনেক বেশি সম্মেলন হয়। সম্মেলন হলে বহু লোকের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়, আমরা সবগুলো আপনাদের বলি না। বাংলাদেশের যেহেতু মান ইজ্জত এবং উন্নয়ন হচ্ছে। সবাই আমাদের কাছে জিনিস বিক্রি করতে চায়। তাই এখন আমাদের সঙ্গে এসে দেখা করেন, আগে এত দেখা করতো না। বিদেশিরা মূলত বিক্রি করার জন্য আসে। আর অন্যদের চাপ সৃষ্টি করে যাতে তার থেকে বিক্রি না করে। আমেরিকা বিক্রি করতে চায়, ফ্রান্স বিক্রি করতে চায়, ইউরোপ বিক্রি করতে চায়, ব্রিটিশরা বিক্রি করতে চায়।
আইএইচআর/এমএইচআর/জিকেএস