জাতীয়

ভোট বাতিলের দাবিতে শত অভিযোগ : আমলে নিচ্ছে না ইসি

সদ্য শেষ হওয়া প্রথম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে নানা অভিযোগে ভোট বাতিলের অনেক দাবি উঠলেও আমলে নিচ্ছে না নিবাচন কমিশন (ইসি)।নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার, ব্যালট পেপার ছিনতাই, কেন্দ্র দখল, সহিংসতাসহ নানা অনিয়মের বিষয়ে প্রার্থীরা  ভোটের পর গত ৫ দিনে প্রায় কয়েক শতাধিক অভিযোগে ভোট বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। তবে এসবের গুরুত্ব দিচ্ছেন না ইসির সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তারা। এমনকি নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির দৃশ্য দেখার পর ও প্রার্থীদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পরও সেগুলো তদন্ত করার কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি ইসি। ইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এ বিষয়ে সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ইউপি নির্বাচনের অনিয়মের চিত্র টেলিভিশন ও পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। স্থানীয় সরকার (ইউপি) নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী কমিশন বিশেষ ক্ষমতাবলে এগুলো তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে পারে। এতে কমিশনের স্বচ্ছতা ও নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। এছাড়া নির্বাচনী অনিয়মের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের সুযোগ রয়েছে।বিধি অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের আগ পর্যন্ত বিশেষ ক্ষমতা বলে যেকানো অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতা রয়েছে কমিশনের। তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ইউপির নির্বাচন বাতিল করতে পারে কমিশন। কিন্তু গেজেট প্রকাশের পর নির্বাচনের ফলে প্রভাব ফেলে এমন অনিয়মের তদন্তের সুযোগ থাকে না। তবে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা নির্বাচনের অনিয়মের ঘটনায় ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে পারেন। তখন বিষয়টি নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল দেখবে। তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নে এক কেন্দ্রে অস্বাভাবিক ভোট পরার অভিযোগ এনে ওই কেন্দ্রের ফল বাতিলের দাবি জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট ইউপির চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রণব ঘোষ বাবলু। রোববার ইসিতে গিয়ে কেন্দ্রে বিভিন্ন অনিয়মের চিত্রসহ প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর অভিযোগ করেন। অভিযোগে তিনি বলেন, নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই নৌকা মার্কার প্রার্থী ও তার সমর্থকদের হুমকি-ধামকি দিচ্ছে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আজিজুর রহমান রাজু ও কর্মীরা। অভিযোগে তিনি আরো বলেন, খলিলনগর ইউনিয়নের নলতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র দখল করে নিয়ে রাজুর কর্মীরা প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট কাস্ট করেছে। তিনি এ কেন্দ্রে তদন্ত করে ভোট বাতিল চেয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী প্রণব ঘোষ বাবলু আরো অভিযোগ করেন, ‘আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত নেতা আনারস মার্কার প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিলের পর থেকে নির্বাচনী এলাকায় নানা তাণ্ডব চালিয়ে আসছে। ভোটগ্রহণ চলাকালে হরিশচন্দ্রকাটি কেন্দ্রে প্রভাব খাটিয়ে কর্তব্যরত পুলিশ দ্বারা পিটিয়ে আমার কর্মিদের রক্তাক্ত করেছে। নির্বাচনের আগের দিন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও আমার নির্বাচনী এজেন্ট সিরাজুল মোড়লকে র্যাব দ্বারা গ্রেফতারের চেষ্টা করে। নলতা ভোট কেন্দ্রে আমাকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এমনকি ভোট কেন্দ্রের ৪ নং বুথে রাজু’র ভাই ইমরান প্রকাশ্যে নারীদের কাছ থেকে জোর করে ব্যালট নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীর আনারস প্রতীকে সিল মেরেছে। বিষয়টি নিয়ে আমি ২১ বার প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেননি।’ সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে সদস্য পদপ্রার্থী তার অভিযোগে বলেছেন, ভোট কারচুপির কারণে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গেজেট স্থগিত করে পুনঃনির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন তিনি। ৮ নং ওয়ার্ডের ভোটকেন্দ্রে দিনভর সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে কেন্দ্র দখল করে সিলমারা হয়েছে বলেও তিনি জানান। একই ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের নারী প্রার্থী রাশিদা বেগম অভিযোগ করে বলেন, দেয়াড়া দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে প্রতিপক্ষের লোকজন সন্ত্রাসী নিয়ে কেন্দ্র দখল করে সিল মেরেছেন। এসময় বাধা দিতে গেলে বোমা ফাটিয়ে তাণ্ডব সৃষ্টি করে আমার কর্মী সমর্থকদের এলাকা ছাড়া করা হয়। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের নির্বাচন বাতিল করে পুনঃনির্বাচন দাবি করেন তিনি। অন্যদিকে ভোট কারচুপিসহ নানা অভিযোগ এনে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ও সদর উপজেলার বল্লী ইউপি নির্বাচনের ভোট বাতিলের দাবি করেছেন বিএনপির দুজন ও আওয়ামী লীগের একজন পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী। সম্প্রতি ভোট বাতিল করে পুনঃনির্বাচনের দাবিতে ইসিতে আবেদন করেছেন সংক্ষুদ্ধরা। একইভাবে ভানী ইউনিয়ন পরিষদের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী এম এ হান্নান, শেরপুরের নালিতাবাড়ীর উপজেলার কলসপাড়, মরিচপুরা ও নয়াবিল ইউপির অর্ধডজন চেয়ারম্যান প্রার্থী সহিংসতা, ব্যালট ছিনতাই ও কেন্দ্র দখলের কারণে ভোট বাতিল চেয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে আবেদন করেছেন। ২২ মার্চ ভোটগ্রহণের পর এরকম সহশ্রাধিক আবেদন ইসিতে জমা পড়েছে বলে দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।  এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আবু হাফিজ বলেন, সব অভিযোগই আমলে নেয়া হচ্ছে। ঘটনা তদন্ত করে সত্যতা পেলে ইসি অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এছাড়া প্রার্থীরা চাইলে আইনের আশ্রয় নিতে পারে বলেও জানান তিনি। উল্লেখ্য, ইসির ঘোষণা অনুযায়ী প্রথম ধাপে ২২ মার্চ ৭১২টি ইউপিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।এইচএস/একে/পিআর