দুপুর আনুমানিক একটা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) প্রশাসনিক ভবনের বাইরে কালো বোরকা পরিহিত এক মহিলাকে ঘিরে আছে কয়েকজন আনসার সদস্য ও কয়েকজন মহিলা। উপস্থিত একজন মহিলার দু’চোখ বেয়ে অনবরত অশ্রু ঝরছে। তিনি বোরকা পরিহিত ওই মহিলাকে উদ্দেশ্য করে বলছিলেন, অনেক কষ্ট করে গলার চেইনটি বানিয়েছি। আমার চেইনটা ফেরত দাও। তার কান্না শুনে কোলের শিশুটিও কেঁদে উঠে। উপস্থিত দু’জন মহিলা আনসার সদস্য লাঠি হাতে বোরকা পরিহিত মহিলার দিকে তেড়ে এগিয়ে যায়। মহিলা শব্দ করে কেঁদে উঠে। এ দেখে আনসার সদস্যরা চেঁচিয়ে উঠে দেখেন দেখেন চোখে এক ফোঁটা পানিও নেই।গতকাল (শনিবার) এমনই এক দৃশ্যের অবতারণা হয় ঢামেক হাসপাতাল প্রাঙ্গনে। হাসপাতালের বহির্বিভাগে রোগী বেশে দাঁড়িয়ে স্বর্ণের চেইন ছিড়ে নিয়ে পলানোর সময় রোগীরা সালমা নামে সংঘবদ্ধচক্রের এক সদস্যকে আটক করে। সালমাকে আটক করলেও ছিনতাই হওয়া স্বর্ণের চেইন নিয়ে তার সহযোগীরা পালিয়ে যায়।শাহনাজ নামের এক রোগী জানান, তিনি আড়াইহাজার থেকে আজ সকালে (শনিবার) ডাক্তার দেখাতে বহির্বিভাগে আসেন। ডাক্তার দেখানোর পর সরকারিভাবে সরবরাহকৃত ওষুধ সংগ্রহের জন্য যখন তিনি লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন তখন ওই মহিলাসহ কয়েকজন পেছন থেকে বার বার সামনে যাওয়ার জন্য ঘাড়ে হাত রেখে তাগাদা দিচ্ছিলেন।লাকি আক্তার নামের আরেকজন রোগী জানান, যখন ওই মহিলা তার স্বর্ণের চেইন ধরে টান দেন তখন তিনি ছিনতাইকারী বলে চিৎকার করতে থাকেন। উপস্থিত আরো কয়েকজন রোগী জানান, ওই নারী একা ছিলেন না। তার সঙ্গে পুরুষ মহিলা মিলিয়ে আরও কয়েকজন ছিলেন। সামনে এগিয়ে যাওয়ার তাগাদা দেয়ার ভান করে সুকৌশলে চেইন নিয়ে সে সহযোগীদের কাছে পাচার করে দেয়।তবে অভিযুক্ত সালমা অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, স্বর্ণের চেইন তিনি ছিনতাই করেননি। তিনি গাবতলী এলাকা থেকে ডাক্তার দেখাতে এসেছেন। ওই সময় লাকি আক্তার নামের এক নারী সালমার দিকে তেড়ে এসে বলেন, ডাক্তার দেখাতে আসলে কত কাগজপত্র থাকে তোর কাছে তো কিছুই নাই। মিথ্যাবাদি কোথাকার। এ সময় হাসপাতাল পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মিজানুর রহমান অভিযুক্ত সালমাকে পুলিশে সোপর্দ করার নির্দেশ দেন। এমইউ/এসকেডি/এবিএস