দেশজুড়ে

নওগাঁয় উৎসাহ উদ্দীপনায় চলছে নির্বাচনী প্রচারণা

নওগাঁর পত্মীতলা ও ধামইরহাট উপজেলায় দ্বিতীয় দফা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় জমজমাট হয়ে উঠেছে। প্রচারণায় দিনভর ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন প্রার্থীরা। ছুটে যাচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। ইত্যেমধ্যে পোস্টারে ছেয়ে গেছে ওই দুই উপজেলার রাস্তাঘাট। ভোটাররা জানিয়েছেন তারা যোগ্য প্রার্থীদের ভোট দেবেন।ভোটার ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, ইউপি নির্বাচনে মূল লড়াই হবে নৌকা ও ধানের শীষের মধ্যে। তবে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের বিদ্রেহী প্রার্থীরা। বিদ্রোহী প্রার্থীদের দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও দলের তৃণমূলের এক অংশ নেতাকর্মীর অনেকে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় বেকায়দায় রয়েছেন তারা। ধামইরহাট উপজেলার ফতেপুর গ্রামের সাইদুল ইসলাম, মোস্তফা ও ইউনুছ জানান, সবাইতো প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। আমরা প্রতিশ্রুতিতে না ভুলে সৎ ও যোগ্য ব্যাক্তিকেই ভোট দিবো।পত্মীতলা উপজেলার নজিপুর বাজার এলাকার বুলবুল হোসেন, সজিব কুমার জানান, প্রতীকের চেয়ে যে প্রার্থীরা সৎ, যোগ্য ও জনসাধারণের সাথে সুখে-দুঃখে সব সময় পাশে থাকবেন তাদেরকেই ভোট দিয়ে জয়ী করবো।পত্মীতলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইছহাক হোসেন বলেন, নেতা-কর্মীদের প্রত্যক্ষ ভোটের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বাছাই করা হয়েছে। এরপরেও যারা দলের সিদ্ধান্ত না মেনে প্রার্থী হয়েছেন তাঁদের সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। প্রয়োজনে তাদেরকে স্থায়ীভাবে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। একই ইউনিয়নে দলীয় একাধিক প্রার্থী থাকায় ভোটারদের মধ্যে প্রভাব পরলেও নৌকার প্রার্থীরাই শতভাগ জয়ী হবেন এমনটি প্রত্যাশা করেন তিনি।ধামইরহাট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাদেকুর রহমান জানান, ইউপি নির্বাচনে ধামইরহাটে বিএনপিতে কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী নেই। তবে দুটি ইউনিয়নে জামায়াত প্রার্থী থাকায় একটু সমস্যা হতে পারে। তারপরেও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ধামইরহাটে সবকটি ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থীরা বিজয়ী হবে বলে আমি আশাবাদী।ধামইরহাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম জানান, বিএনপি তাদের নির্বাচনী কর্মকাণ্ড ভালোভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপি তাদের চিরাচরিত অপ-রাজনৈতিকতা অর্থাৎ মিথ্যা অভিযোগ শুরু করেছে। দলীয় নিয়মশৃঙ্খলা ভেঙে যে সকল প্রার্থী ভোট করছেন তাদের ইতোমধ্যে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে কর্মী, সমর্থক ও ভোটারদের স্বর্তঃফুর্ত অংশগ্রহণ থাকায় শতভাগ জয়ী হবে।জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হুমায়ন কবীর জানান, ধামইরহাটে আটটি ইউনিয়নে ৭৪টি কেন্দ্রে ১লাখ ২৭ হাজার ৯৭৯ জন ভোটার এবং পত্মীতলায় ১১টি ইউনিয়নে ১০০ টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৫৯ হাজার ৮৬ জন ভোটার রয়েছেন। এখন পর্যন্ত কোনো নির্বাচনী সহিংসতা নেই। আশা করা হচ্ছে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে।জেলা পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক, বিপিএম, পিপিএম জানান, আগামী ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদের ভোট শান্তিপূর্ণ করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ভোট শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ কর্মকর্তা।আব্বাস আলী/এফএ/এমএস