সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামের অন্তর্ভুক্তির বিধান নিয়ে রিট আবেদনের শুনানির বিরোধিতা করে জামায়াতে ইসলামী হরতাল ডাকলেও সিলেট নগরের জনজীবনে এর কোনো প্রভাব পড়তে দেখা যায়নি। সকাল থেকে শুরু হওয়া গুঁড়ি-গুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, রিকশা ও অটোরিকশা চলাচল করতে দেখা গেছে। সিলেটের দুরপাল্লার বাস ও ট্রেন চলাচলও ছিল স্বাভাবিক। তবে হরতাল আহ্বানকারীদের নগরের কোথাও দেখা যায়নি।সোমবার সকাল থেকে সিলেট নগরের বিভিন্ন পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, জামায়াত-শিবির কর্মীদের তেমন কোনো তৎপরতা বা মিছিল-পিকেটিংয়ের ঘটনা ঘটেনি। সকাল থেকেই সিলেটে বৃষ্টি থাকায় রাস্তায় যানচলাচল কম। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে গাড়ির সংখ্যা। চলছে ব্যক্তিগত গাড়িও। এমনকি জিন্দাবাজারে চিরচেনা যানজটও লেগে থাকতে দেখা যায়।নগরের জিন্দাবাজার, রিকাভীবাজার, বন্দরবাজার, সুরমা মার্কেট পয়েন্ট ও আম্বরখানা পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায় রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল করছে। সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) মুহাম্মদ রহমত উল্লাহ জাগো নিউজকে বলেন, জামায়াত হরতাল ডাকার পর থেকে নগরবাসীর নিরাপত্তা ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে পুলিশের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হয়। বেলা পৌনে তিনটা পর্যন্ত নগরের কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। এছাড়া জামায়াত-শিবিরের কোনো নেতাকর্মীদেরও হরতালের সমর্থনে রাজপথে নামতে দেখা যায়নি।সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সময়ে কার্যত বিরোধী দলবিহীন চতুর্থ জাতীয় সংসদে ১৯৮৮ সালের ৫ জুন সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী অনুমোদন পায়। এর দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে যুক্ত ২ (ক) দফায় বলা হয়, ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম হবে ইসলাম, তবে অন্যান্য ধর্মও প্রজাতন্ত্রে শান্তিতে পালন করা যাইবে’।ধর্মনিরপেক্ষ দেশ হিসেবে ১৯৭১ সালে যাত্রা শুরু করা বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মূলনীতিতে এই পরিবর্তনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তখনই হাই কোর্টে একটি রিট আবেদন করেন ‘স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ কমিটির’ পক্ষে সাবেক প্রধান বিচারপতি কামালউদ্দিন হোসেন, কবি সুফিয়া কামাল, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীসহ ১৫ বিশিষ্ট নাগরিক। ২৮ বছর আগের ওই আবেদনের ভিত্তিতে দেওয়া রুলের ওপর সোমবার হাই কোর্টের বৃহ্ত্তর বেঞ্চে শুনানি হয়।১৯৮৮ সালে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিবাদে ৩ দিনের হরতাল ডেকেছিল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সম্মিলিত স্বৈরাচার বিরোধী জোট। তখনকার সেই হরতালেও সমর্থন জানিয়েছিল জামায়াত।ছামির মাহমুদ/এফএ/এবিএস