বর্ধিত খাজনা প্রত্যাহার করাসহ ভূমি সংক্রান্ত সকল জটিলতা নিরসনের সাত দফা দাবিতে বরিশালে সাংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।সোমবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে বরিশাল বিএনডিন মিলনায়তনে ‘বর্ধিত ভূমি খাজনা প্রত্যাহার সংগ্রাম কমিটি’ এ সাংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বর্ধিত ভূমি খাজনা প্রত্যাহার সংগ্রাম কমিটির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক দেওয়ান আব্দুর রশিদ নীলু।তিনি বলেন, গত বছর ৩০ জুন ভূমি মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ভূমি খাজনা বৃদ্ধি করে এবং ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়। প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) দ্বিগুণ থেকে সাতগুণ পযন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। জনগণের মতামতের তোয়াক্কা না করে ভূমি মন্ত্রাণালয় স্বপ্রণোদিত হয়ে অন্যায় ও অযৌক্তিকভাবে করের বোঝা জনগণের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। কর বৃদ্ধির আগে বিশেষজ্ঞদের মতামত কিংবা জাতীয় সংসদে কোনো আলোচনা ও বিল উত্থাপনের প্রয়োজন মনে করেনি। এর মাধ্যমে ভূমি মন্ত্রণালয় জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘন করেছে।সাংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জমির অবস্থান ও ব্যবহারভিত্তিক খাজনা নির্ধারণে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে যে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তা অত্যন্ত জটিল ও ব্যয়বহুল। এমনিতেই দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের জীবন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এমন অবস্থায় ভূমির খাজনা বৃদ্ধি যেন মরার ওপর খড়ার ঘা। পরে সাংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করা সাত দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়।দাবিগুলো হচ্ছে, বর্ধিত ভূমি খাজনা প্রত্যাহার, খাজনা পুনঃনির্ধারণে সকল জেলা, উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ে গণশুনানির আয়োজন, জাতীয় ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা ও পারমর্শ গ্রহণ, বর্ধিত হারে কর আদায় বন্ধ রেখে পূর্বের হারে খাজনা আদায়, জমির প্রকৃত ধরণ নির্ধারণ না করে উন্নয়ন কর আদায়কারী ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, খাজনার ক্ষেত্রে ইউনিয়ন, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের বৈষম্য বাতিল এবং ভূমি কমিশন গঠন। দাবিগুলো মেনে নেয়ার লক্ষ্যে আগামী ২০ এপ্রিল বরিশাল নগরীতে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সাংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. এসকান্দার আলী সিকদার, হারুন অর রশিদ মাহমুদ, মাসুদ চৌধুরী রুবিনা ইয়াসমিন প্রমুখ।সাইফ আমীন/এআরএ/আরআইপি