প্রভাব খাটিয়ে পর পর সাত বছর চেয়ারম্যান থেকেছেন বিমানের বিতর্কিত চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন আহমেদ। এবার আর রক্ষা হচ্ছে না। দু-এক দিনের মধ্যে নতুন বিমান পরিচালনা পর্ষদের (বোর্ড) নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হবে। পরিচালনা পর্ষদের নতুন চেয়ারম্যান হচ্ছেন বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল এনামুল বারী। এনামুল বারীর সঙ্গে পরিচালনা পর্ষদে সদস্য হিসেবে যোগ দিচ্ছেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার তানজিব-উল আলম। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে পর্ষদ গঠন-সংক্রান্ত প্রস্তাব আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো হয়েছে।এ ছাড়া পদাধিকার বলে বোর্ডের সদস্য হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন সচিব, সহকারী বিমানবাহিনী প্রধান (অপারেশন অ্যান্ড ট্রেনিং), সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার ইন চিফ, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।এ বিষযে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন জাগো নিউজকে বলেন, জামাল উদ্দিনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বারবার জবাবদিহি করতে হয়েছে। এ পর্যন্ত তাকে নিয়ে বহুবার বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়েছে। সবকিছু বিবেচনা করে আমরা আজ সোমবার বোর্ড পুনর্গঠনের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে। বোর্ডের প্রধান হিসেবে কয়েকজনের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। দেখা যাক প্রধানমন্ত্রী কি করেন। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে নতুন সরকার গঠিত হলে রাশেদ খান মেনন বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। এসময় জামাল উদ্দিনের কাছে যেন বিমান জিম্মি ছিলো। প্রথম দিকে কিছুদিন ভালো চললেও এক সময় নানান ইস্যুতে রাশেদ খান মেনন চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিনের ওপর বিরক্ত হন। ক্রমেই দু’জনের মধ্যে দুরত্ব বাড়তে থাকে। আর জামাল উদ্দিনের প্রতি সর্বোচ্চ মহলের সমর্থন থাকায় মেনন শুরুতে সব কিছু মেনে নেন। একপর্যায়ে জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে সংসদে বক্তব্য দেন মেনন। মেনন বলেছিলেন, জামাল উদ্দিন আহমেদকে চেয়ারম্যান বহাল রাখা হলে তাকে যেন বিমান মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এমন এক অন্ধকার সময়ে আদালতের নির্দেশনায় ২৭ মার্চ এজিএম করার সুযোগ পায় বিমান। নতুন বোর্ড গঠনের আগ পর্যন্ত শুধু এজিএম-বিষয়ক বোর্ডসভা করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হলেও বিমান চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন আহমেদ তা আমলে নেননি। চলতি মাসে তিনি দুটো বোর্ডসভা করেন। এসব বোর্ডসভায় এজিএম ছাড়াও একাধিক বিষয় এজেন্ডাভুক্ত ছিল। সবকিছু বিবেচনা করে জামাল উদ্দিন আহমেদের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে যায় জামাল উদ্দিনের।এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে জামাল উদ্দিন আহমেদের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।আরএম/এআরএস/এবিএস