বিএনপি-জামায়াতের ডাকা অবরোধে কপাল খুলে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকদের। অবরোধে দুদিন ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাস চলাচল বন্ধ আছে। চলছে না অভ্যন্তরীণ বাসও। তিন চাকার বাহন চলাচল নিষিদ্ধ হলেও অবরোধে মহাসড়কে অটোরিকশার রাজত্ব চলছে। যাত্রীরাও বাস না পেয়ে বাধ্য হয়ে অটোরিকশায় চড়ে গন্তব্যে যাচ্ছেন।।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে গিয়ে দেখা গেছে, অবরোধের কারণে মানুষ অটোরিকশায় চলাচল করছেন। বাসের তুলনায় ভাড়া বেশি হলেও কিছু করার নেই। অন্যসময় পুলিশের ভয়ে সড়কে অটোরিকশা না তুললেও এখন দিব্যি চলছে। পুলিশ দেখলেও মানুষের সুবিধা-অসুবিধার কথা চিন্তা করে কিছু বলছে না।
মিরসরাই সদর থেকে বারইয়ারহাট যাওয়া দিদারুল আলম বলেন, অবরোধের কারণে সড়কে কোনো বাস নেই। আগে উত্তরা ও চট্টগ্রাম-ফেনী রুটে চলাচল করা বিভিন্ন লোকাল বাসে আসা যাওয়া করতাম। এখন বাস বন্ধ থাকায় অটোরিকশাযোগে গন্তব্যস্থলে যেতে হচ্ছে। উপায় নেই, যেতে হবে।
বারইয়ারহাট থেকে বড়দারোগাহাট যাওয়া ব্যবসায়ী শাহাদাত হোসেন শাহিন বলেন, বাসে এখান থেকে বড়দারোগাহাট যেতে ভাড়া লাগতো ৪০ টাকা। এখন বাস বন্ধ, তাই অটোরিকশা করে যেতে হচ্ছে ১০০ টাকা ভাড়ায়।
মিরসরাই সদরের ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, বিএনপি জামায়াতের ডাকে অবরোধ করছে। লোকাল ও আন্তঃজেলার কোনো বাস চলছে না। মানুষকে তো নিজ নিজ কাজে চলাচল করতে হবে। যেহেতু ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অটোরিকশা চলছে তাই এটাতে যাচ্ছে।
ফাহমিদা আক্তার নামে এক নারী বলে, বাস চলাচল না করায় সুযোগটা অটোরিকশা কাজে লাগাচ্ছে। ১০ টাকার ভাড়া এখন ৩০ টাকা নিচ্ছে। ভাড়া বেশি নিচ্ছে।
অটোচালক আবু জাফর বলেন, আমি গ্রামের রাস্তায় গাড়ি চালাতাম। এখন যেহেতু অবরোধের কারণে বাস নেই তাই মহাসড়কেও চালাচ্ছি। নিজেরও আয় হচ্ছে, মানুষেরও উপকার হচ্ছে। আমি মিরসরাই সদর থেকে বারইয়ারহাট একজন ৬০ টাকা করে নিচ্ছি। কেউ ৫০ টাকা দিলেও নিয়ে যাচ্ছি।
আরেক অটোচালক সোহেল বলেন, পুলিশের কারণে মহাসড়কে গাড়ি চালাতে পারি না। অবরোধের কারণে বাস বন্ধ, সড়কও ফাঁকা তাই চালাচ্ছি। পুলিশ আপাতত বিরক্ত করছে না। মঙ্গলবার সারাদিন গাড়ি চালিয়ে প্রায় ২৬০০ টাকা ভাড়া পেয়েছি। সব সময় তো এ সুযোগ আসে না। অবরোধের কয়েকদিন হয়তো ভাড়া মারতে পারবো।
তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার বিষয়টি ঠিক না। মিরসরাই থেকে বাসযোগে বারইয়ারহাট যেতে ২০-৩০ টাকা লাগে। আমরা ৫০-৬০ টাকা নিচ্ছি।
এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানার ইনচার্জ সোহেল সরকার জাগো নিউজকে বলেন, অবরোধের কারণে মহাসড়কে কিছু অটোরিকশা চলতে পারে। তবে খুব বেশি না। কারণ বাস যেহেতু নেই, মানুষ তো আসা-যাওয়া করতে হবে।
এসজে/জেআইএম