দেশজুড়ে

শেরপুরে শিশুহত্যা মামলায় ৩ জনের ফাঁসি

শেরপুরে চাঞ্চল্যকর শিশু আরাফাত ইসলাম রাহাত (৮) হত্যা মামলায় ৩ জনের ফাঁসি ও একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন শেরপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। মঙ্গলবার দুপুরে জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সায়েদুর রহমান খান। এ সময় আসামিদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, শেরপুর সদর উপজেলার বয়ড়া পরানপুর এলাকার মতিউর রহমান চৌধুরীর ছেলে আব্দুল লতিফ (২১), একই এলাকার ফারুক মিয়ার ছেলে রবিন মিয়া (২০) ও জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার ফুলকারচর মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল হাকিমের ছেলে আসলাম বাবু (২২)। একই ঘটনায় যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত হলেন, নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী পশ্চিমপাড়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে ইমরান হোসেন (২১)।আদালত সুত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২ আগস্ট দুপুরে শেরপুর শহরের গৃদানারয়ণপুর এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শহীদুল ইসলাম খোকনের ছেলে এবং স্থানীয় বিপ্লব-লোপা মেমোরিয়াল স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্র আরাফাত ইসলাম রাহাতকে তার আপন খালু আব্দুল লতিফসহ কয়েকজন দুর্বৃত্ত অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করে। অপহরণের ৬ দিন পর ৮ আগস্ট দুপুরে সীমান্তবর্তী নালিতাবাড়ীর মধুটিলা ইকোপার্ক সংলগ্ন পাহাড় থেকে অপহৃত শিশু রাহাতের কঙ্কাল উদ্ধার করে পুলিশ।ওই ঘটনায় নিহত রাহাতের খালু লতিফসহ অপর তিন আসামি রবিন মিয়া, আসলাম বাবু ও ইমরান হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তদন্ত শেষে পুলিশ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ২৯ নভেম্বর লতিফসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। পরবর্তীতে নিম্ন আদালত ১৩ ডিসেম্বর মামলাটি বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে পাঠালে ৩ ফেব্রুয়ারি ৪ আসামির বিরুদ্ধেই অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল। এরপর ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া রাষ্ট্রপক্ষের ২৭ জন সাক্ষীর মধ্যে সকলের জবানবন্দি-জেরা এবং সর্বশেষ ২০ মার্চ উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে ২৯ মার্চ ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করেন।রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট গোলাম কিবরিয়া বুলু বলেন, চাঞ্চল্যকর ঘটনা হওয়ার প্রেক্ষিতে শিশু রাহাত হত্যা মামলাটি ট্রাইব্যুনালে আসার পরপরই দ্রুততম সময়ে বিচার নিষ্পত্তির পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং ৯ কার্যদিবসের মধ্যেই সকল সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরাসহ উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়। এ রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে সরকারের ন্যায়বিচার বাস্তবায়নের অঙ্গিকার প্রতিফলন ঘটেছে।এ সময় মামলার বাদী রাহাতের বাবা শহিদুল ইসলাম খোকন রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুততম সময়ে দণ্ড কার্যকরের দাবি জানান। তারা জেলা প্রশাসন, পুুলিশ প্রশাসনসহ শেরপুরের স্বেচ্ছাসেবী বিভিন্ন সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মিডিয়া কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।এদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট নারায়ণচন্দ্র হোড় জানান, রায়ের কপি পাওয়া সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।হাকিম বাবুল/এফএ/আরআইপি