বিএনপি-জামায়াতের ডাকা দ্বিতীয় দফা অবরোধের প্রথমদিনে কক্সবাজারে বন্ধ রয়েছে দূরপাল্লার বাস চলাচল। তবে স্বাভাবিক রয়েছে কক্সবাজার শহরের অভ্যন্তরীণ সব ধরনের যান চলাচল।
পরিবহন শ্রমিক নেতা শফিউল্লাহ আনসারির দাবি, অবরোধে এ পর্যন্ত কক্সবাজারের কোথাও তাদের যানবাহন আটকানো হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার কারণে স্বাভাবিক নিয়মে পরিবহন চলাচল করছে।
পরিবহন সংশ্লিষ্ট একাধিক দায়িত্বশীলরা জানিয়েছেন, কক্সবাজার থেকে দূরপাল্লার কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। শহরের সঙ্গে মহেশখালী দ্বীপ উপজেলায় নৌ-রুটেও চলাচল করতে স্পিডবোটসহ অন্যান্য ট্রলার।
আরও পড়ুন: অবরোধের প্রভাব নেই বরিশালে, স্বাভাবিক লঞ্চ-বাস চলাচল
সকাল থেকে কক্সবাজারের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্ট ও মহাসড়কে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। প্রতিটি সড়কে বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র্যাব, বিজিবির টহল দিচ্ছে।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. মাহাফুজুল ইসলাম বলেন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় পুলিশ সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশের অবস্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে টহল। র্যাব ও বিজিবি সদস্যরাও মাঠে রয়েছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা বা নাশকতার চেষ্টার খবর পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চকরিয়া চিরিঙ্গা হাইওয়ে থানার ইনচার্জ খোকন কান্তি রুদ্র ও মালুমঘাট হাইওয়ে থানার ইনচার্জ মো. ইকবাল বাহার মজুমদার জানান, কক্সবাজার মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে হাইওয়ে পুলিশ সতর্ক অবস্থান রয়েছে। পুলিশের পৃথক টিম মাঠে দায়িত্ব পালন করছে। অবরোধের নামে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনায় ছাড় দেওয়া হবে না।
আরও পড়ুন: মহাসড়কে গণপরিবহন কম, র্যাব-পুলিশের টহল
টেকনাফ মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জোবাইর সৈয়দ বলেন, টেকনাফে পুলিশ সতর্ক অবস্থান রয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্ব পুলিশের পৃথক কয়েকটি টিম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কাজ করছে।
পেকুয়া থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর হায়দার বলেন, বিএনপি-জামায়াতের অবরোধে পেকুয়ায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ পুলিশের পৃথক টিম মাঠে রয়েছে।
রামু থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবু তাহের দেওয়ান বলেন, অবরোধের নামে নাশকতা ঠেকাতে বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে রয়েছে। এ পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশের পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা মাঠে রয়েছে।
আরও পড়ুন: অবরোধের সঙ্গে চলছে আধাবেলা হরতাল, ট্রাক ভাঙচুর
রোববার বেলা ১১টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উখিয়া সার্কেল) মো. রাসেল জানান, উখিয়া-টেকনাফের মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে। সরকারি-বেসরকারি অফিস খোলা, স্বাভাবিক রয়েছে যান চলাচল।
অন্যদিকে, কক্সবাজার পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি নজিবুল ইসলামের নেতৃত্বে ভোর থেকে কক্সবাজার শহরের লালদিঘীর পাড়ের জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জড়ো হচ্ছেন নেতাকর্মীরা। সেখানে তারা শান্তি সমাবেশ ও অবরোধবিরোধী বিক্ষোভ মিছিল বের করেছে। শহীদ সরণিস্থ কক্সবাজার জেলা বিএনপির কার্যালয় সকাল থেকে তালাবদ্ধ থাকলেও অবস্থান করতে দেখা গেছে পুলিশের একটি দল।
সায়ীদ আলমগীর/জেএস/জেআইএম