আইন-আদালত

তারেক সাঈদের পায়ে পর্যন্ত ধরেছিলাম : নজরুলের শ্বশুর

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের দুটি মামলায় নিহত নজরুলের শ্বশুর শহিদ চেয়ারম্যানের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা হতে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ চলে। পরবতী সাক্ষ্যগ্রহণ আগামী ৪ এপ্রিল ধার্য করেছে আদালত।সাক্ষ্যগ্রহণে নিহত নজরুলের শ্বশুর শহিদ চেয়ারম্যান আদালতকে জানিয়েছে, নজরুলসহ সাতজনকে যখন অপহরণ করা হয় তখন আমরা নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমানের কাছে যায়। এ সময় তিনি বলেছেন, নজরুলকে বাঁচাতে হলে র‌্যাবের কাছে যান। নজরুলকে র‌্যাব অপহরণ করেছে।শামীম ওসমানের কথা মতো র‌্যাব-১১ এর কর্নেল তারেক সাঈদের কাছে গেলে তারেক সাঈদ বলেছে, নজরুলকে শামীম ওসমান অপহরণ করেছে। তাকে শামীম ওসমানই রক্ষা করতে পারবে। তারেক সাঈদকে বলেছিলাম, নজরুলকে খুন করতে আপনাদের যত টাকা দিয়েছে তার চেয়ে বেশি টাকা দিব। তারপরও নজরুলকে ফিরিয়ে দিন। তারেক সাঈদের পায়ে পর্যন্ত ধরেছিলাম।আদালতকে শহিদ চেয়ারম্যান আরও জানান, নূর হোসেনের টাকা ও ফ্লাটের বিনিময়ে র্যাবই এই কাজ করেছে। নজরুলকে খুন করতে পারলে নূর হোসেনের অন্যায়ের প্রতিবাদ করার মত কোন লোক থাকবে না।এদিকে শহিদ চেয়ারম্যানকে মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনের আইনজীবী ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা জেরা করতে থাকে। জেরায় নজরুলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন। এমনকি শ্বশুর তার মেয়ের জামাইয়ের বিরুদ্ধে আন্দোলনও করেছিল বলে জেরায় অ্যাড. খোকন সাহা জিজ্ঞাসা করেছেন।আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, শহিদ চেয়ারম্যান, নজরুলের সহযোগী শাহ জালালের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে সাত খুনের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া ২৩জনের উপস্থিতিতে তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়। আগামী ৪ এপ্রিল পরবতী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছে আদালত।প্রসঙ্গত ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন ও গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম এবং আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহীম অপহৃত হন। পরে ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয়জনের ও ১ মে একজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।শাহাদাত হোসেন/এসএস/আরআইপি