উত্তর কলকাতার বিবেকানন্দ উড়ালসেতু দুর্ঘটনায় বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত ২২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে প্রশাসন। এদের মধ্যে ৬ জনের পরিচয় জানা গেছে। ঘটনাস্থল থেকে ৭৮ জনকে জীবিত ও আহত অবস্থায় উদ্ধার করেছে উদ্ধারকারীরা। কলকাতার বিভিন্ন হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসা চলছে। এদিকে উড়ালসেতুটির ভেঙে পড়া স্লেবে নির্মাণত্রুটি ছিল বলে দাবি করেছে উদ্ধারকারী দলের অনেকে। দক্ষিণ ভারতের একটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান প্রায় দেড় কিলোমিটার লম্বা এই উড়ালপুলটি তৈরি করছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নগর উন্নয়ন দফতরের একজন কর্মকর্তা জাগো নিউজকে জানান, ‘ওই প্রতিষ্ঠানকে শোকজ করা হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে তাকে বিস্তারিত রিপোর্ট দিতে হবে।’বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উদ্ধারকারী ডিজাস্টার ম্যানেজম্যান্টের একজন সদস্য সুজন চক্রবর্তী জানান, যে অংশটি ভেঙে পড়েছে তার নির্মাণত্রুটি রয়েছে। বহুজায়গায় ঢালাই ঠিক মতো চোখে পড়েনি।এদিকে ভেঙে পড়া উড়ালপুলের অংশ দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন বহু মানুষ। রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা যেমন যাচ্ছেন, তেমনই নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজেও বহু মানুষকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে।এমনই একজনকে পাওয়া গেলে যার নাম শ্যামলী রায়। বিটি রোডের বাসিন্দা তিনি। তিনি বলেন, তার দাদা প্রবীর রায় সকালে ওই রোড ধরেই রোজ পড়াতে যান। কিন্তু দুপুরের মধ্যে ফিরে এলেও আজ তিনি ফেরেননি এমন কি তার মোবাইল ফোনও বন্ধ। এমন বহু মানুষ এখন ভিড় করেছেন দুর্ঘটনাস্থলে। মূলত উত্তর কলকাতা থেকে হাওড়ার সঙ্গে সংযোগককারী বিবেকানন্দ উড়ালপুলটি তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল ২০০৯ সালে। চার বছরের মধ্যে অর্থ্যাৎ ২০১২ সালে ডিসেম্বরের মধ্যেই কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবিক অর্থে এখন পর্যন্ত এর কাজ চলছে। দুপুর সাড়ে বারটা নাগাদ এই ঘটনা ঘটলেও আড়াই ঘন্টা পর সাড়ে তিনটা থেকে উদ্ধার কাজ শুরু হয়। ভারতীয় সেনাবাহিনী ছাড়াও ন্যাশনাল ডিজাস্টার ফাইটার বা এনডিআরএফ সদস্যরাও উদ্ধার কাজে হাত লাগান। রাজ্য পুলিশের সদস্য ছাড়াও ফায়ার সার্ভিসের কয়েকশ’ কর্মী স্লিডের নিচে চাপাপরা মানুষদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন। কলকাতার এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দক্ষিণবঙ্গে নির্বাচনী প্রচার বাতিল করে তৃণমূল সভানেত্রী মমতা ব্যানার্জি কলকাতায় ফেরেন এবং ঘটনাস্থলে পৌঁছান। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে পেয়ে অনেকেই সেখানে ক্ষোভ-বিক্ষোভ দেখান। এদিকে রাজ্য সরকার নিহতদের জন্য ৫ লাখ, আহতদের জন্য ২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে। ব্রাসেল সফররত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্রিজ দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে সমবেদনা জানান এবং তিনি সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন।কলকাতা প্রতিনিধি/এসএইচএস/পিআর