রংপুর বিভাগের ১০৪টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মধ্যে ৯২টির ফলাফল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগ ৫৮টি, ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপি ৯টি, জাতীয় পার্টি ৩টি ও বিদ্রোহী (আ.লীগ ও বিএনপি) স্বতন্ত্র পেয়েছে ২২টি ইউনিয়ন।বৃহস্পতিবার গভীর রাত ১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত গাইবান্ধায় ১২টি ও ঠাকুরগাঁওয়ের একটি ইউনিয়নের ফলাফল পাওয়া যায়নি।বিভাগের রংপুর জেলায় ১১, দিনাজপুর ৩৫, নীলফামারী ৪, পঞ্চগড় ৬, লালমনিরহাটে ১২, কুড়িগ্রামে ১৩, গাইবান্ধায় ১২ ও ঠাকুরগাঁওয়ের ১১টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় এসব জেলার কেন্দ্রগুলোতে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এরপর ভোট গণনা চলে গভীর রাত পর্যন্ত। বিস্তারিত পড়ুন আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো নিউজেরংপুর থেকে জিতু কবীর জানান, দ্বিতীয় দফার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে ১০টিতেই আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। একটিতে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রাথী।উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, ১নং চৈত্রকোল ইউনিয়নে নৈাকা প্রতীক নিয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের জিয়াউর রহমান সবুজ। তার নিতটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির লিয়াকত আলী বাদল।২নং ভেণ্ডাবাড়ি ইউনিয়নে বিজয়ী হয়েছেন ঘোড়া প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী রবিউল ইসলাম প্রধান। তার নিতটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের আব্দুল হালিম সরকার।৩নং বড়দরগাহ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মোতাহারুল হক বাবুল জয়ী হয়েছেন। তার নিতটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জাতীয় পার্টির ফারুক মণ্ডল।৪নং কুমিদপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মোসফাক হোসেন চৌধুরী ফুয়াদ নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিতটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আনারস প্রতীকের (স্বতন্ত্র) মোজাম্মেল হক লাল।৫নং মদনখালি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রাথী সামসুল আলম জয়ী হয়েছেন। তার নিতটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আনারস প্রতীকের বিএনপি বিদ্রোহী প্রার্থী (স্বতন্ত্র) মোস্তাফিজার রহমান মন্ডল মানিক।৬নং টুকুরিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের আতাউর রহমান জয়ী হয়েছেন। তার নিতটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জাতীয় পার্টির মিজানুর রহমান শাহীন।১০নং শানেরহাট ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মিজানুর রহমান মিন্টু নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রার্থী ছিলেন জাতীয় পার্টির আবেদ হোসেন খান মাজু।১১নং পাঁচগাছি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের লুৎফর রহমান লতিফ জয়ী হয়েছেন। তার নিতটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আনারস প্রতীকের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী (স্বতন্ত্র) বাবুল মন্ডল।১২নং মিঠিপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী এস এম ফারুক নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিতটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান আলী।১৪নং চতরা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের এনামুল হক শাহীন বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রার্থী ছিলেন আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব।১৫নং কাবিলপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের রবিউল ইসলাম রবি নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিতটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী (স্বতন্ত্র) সামসুল হক।উল্লেখ্য, পীরগঞ্জ উপজেলার মোট ১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে সীমানা জটিলতার কারণে ৪টি ইউনিয়নের ভোটগ্রহণ স্থগিত রয়েছে।দিনাজপুর থেকে এমদাদুল এক মিলন জানান, ২য় দফার ইউপি নির্বাচনে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জের ৯টি, বিরামপুরের ৭টি, বোচাগঞ্জের ৬টি, কাহারোলের ৬টি ও ফুলবাড়ীর ৭টি ইউনিয়নে বেসরকারি ফলাফলে ৩৫টি ইউনিয়নের মধ্যে আ. লীগ বিজয়ী হয়েছেন ২১টি ইউনিয়নে। এছাড়া বিএনপি ৬, আ. লীগের বিদ্রোহী ৪ ও স্বতন্ত্র ৪ প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। নবাবগঞ্জ উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে বিজয়ী হলেন যারা-জয়পুর ইউপিতে আইনুল হক চৌধুরী (আ.লীগ), বিনোদনগর ইউপিতে মনোয়ার হোসেন (স্বতন্ত্র), গোলাপগঞ্জ ইউপিতে রাশেদুল হক (স্বতন্ত্র), শালখুরিয়া ইউপিতে এনামুল হক (বিএনপি), পুটিমারা ইউপিতে সারোয়ার হোসেন (আ. লীগ), ভাদুরিয়া ইউপিতে আসমান জমিন (স্বতন্ত্র জামায়াত সমর্থিত), দাউদপুর ইউপিতে আব্দুল্লাহেল আজিম (আ. লীগ), মাহমুদপুর ইউপিতে রহিম বাদশা (স্বতন্ত্র) ও কুশদহ ইউপিতে আবু মোহাম্মদ সায়েম (আ. লীগ)। বিরামপুর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে বিজয়ীরা হলেন, মুকুন্দপুর ইউপিতে সাইফুল ইসলাম (আ. লীগ বিদ্রোহী), কাটলা ইউপিতে নাজির হোসেন (বিএনপি), খাঁনপুর ইউপিতে ইয়াকুব আলী (আ. লীগ), দিওড় ইউপিতে হাফিজুর রহমান (আ. লীগ), বিনাইল ইউপিতে শহীদুল ইসলাম (আ.লীগ বিদ্রোহী), জোতবানী ইউপিতে আব্দুর রাজ্জাক (বিএনপি) ও পলিপ্রয়াগপুর ইউপিতে রহমত আলী (আ. লীগ)।ফুলবাড়ী উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের বিজয়ীরা হলেন, এলুয়াবাড়ী ইউপিতে বর্তমান চেয়ারম্যান মওলানা মো. নবিউল ইসলাম (বিএনপি), আলাদীপুর ইউপিতে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোজাফফর হোসেন সরকার (আ.লীগ), কাজিহাল ইউপিতে বর্তমান চেয়ারম্যান মানিক রতন (আ. লীগ), বেতদিঘী ইউপিতে বর্তমান চেয়ারম্যান উপাধক্ষ শাহ্ আ: কুদ্দুস (আ. লীগ), খয়েরবাড়ী ইউপিতে আবু তাহের মণ্ডল (আ. লীগ), দৌলতপুর ইউপিতে বর্তমান চেয়ারম্যান আ: আজিজ মণ্ডল (আ. লীগ) ও শিবনগর ইউপিতে মামুনুর রশীদ চৌধুরী বিপ্লব (আ. লীগ বিদ্রোহী)।বোচাগঞ্জ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে যারা নির্বাচিত হয়েছেন। তারা হলেন, নাফানগর ইউপিতে শাহনেওয়াজ পারভেজ শাহান (বিএনপি), ইশানিয়া ইউপিতে উৎপল রায় বুলু (আ. লীগ), মুর্শিদহাট ইউপিতে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. জাফরুল্লাহ (আ. লীগ), আটগাঁও ইউপিতে মো. কফিল উদ্দীন আহম্মেদ (বিএনপি), ছাতইল ইউপিতে মো. হাবিবুর রহমান হাবু (আ. লীগ) ও রনগাঁও ইউপিতে মো. আনিসুর রহমান (আ. লীগ)কাহারোল উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে নির্বাচিত যারা-ডাবর ইউপিতে সত্যজিৎ রায় (আ. লীগ), রসুলপুর ইউপিতে মো. নজরুল ইসলাম (আ.লীগ), মুকুন্দপুর ইউপিতে একেএম ফারুক (আ.লীগ), তারগাঁও ইউপিতে মো. সাইফুল ইসলাম (আ.লীগ বিদ্রোহী), সুন্দরপুর ইউপিতে মো. শরীফ উদ্দীন (আ. লীগ) ও রামচন্দ্রপুর ইউপিতে মো. আতাউর রহমান বাবুল (আ. লীগ)।নীলফামারী থেকে জাহিদুল ইসলাম জানান, নীলফামারী সদর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের নির্বাচনের ফলাফল বেসরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। রাত ১০টায় উপজেলা পরিষদের হলরুমে ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তাগণ। ফলাফলে নৌকা প্রতীকে তিনজন, একজন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীসহ স্বতন্ত্র দুইজন প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। চওড়া বড়গাছা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মোশাররফ হোসেন (আনারস) পাঁচ হাজার ৪৩০ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের জুলফিকার আলী ভুট্টু (নৌকা )। তিনি ভোট পেয়েছেন তিন হাজার ১৪৫। এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন ৪ জন। গোড়গ্রাম ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের রেয়াজুল ইসলাম (নৌকা) ছয় হাজার ৮৯৪ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মসিউর রহমান (মোটরসাইকেল)। তিনি ভোট পেয়েছেন পাঁচ হাজার ৯৯৬। এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন ৪ জন। পলাশবাড়ি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মমতাজ আলী নৌকা প্রতীকে চার হাজার ৬১৩ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির প্রার্থী জগদীশ চন্দ্র রায় (ধানের শীষ)। তিনি ভোট পেয়েছেন তিন হাজার ১৯০। এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন ৫ জন। লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী আ.কা. মো. আমিনুর রহমান ওরফে আমিনুর রহমান আনারস প্রতীকে পাঁচ হাজার ৮৯ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান শ্যাম চরন রায় (মোটরসাইকেল)। তিনি ভোট পেয়েছেন তিন হাজার ৯৫৯। এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন ৪ জন। পঞ্চপুকুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের হবিবর রহমান সরকার (নৌকা) চার হাজার ৩৬৩ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান ওয়াহেদুল ইসলাম (মোটরসাইকেল)। তিনি ভোট পেয়েছেন দুই হাজার ২৪৩। এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন ৬ জন। লালমনিরহাট থেকে রবিউল ইসলাম জানান, লালমনিরহাটে হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে আ.লীগের ৮ ও বিদ্রোহী ৪ জন নির্বাচিত হয়েছেন।বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে বেসরকাররিভাবে এসব ফলাফল ঘোষণা করে রিটার্নিং অফিসাররা।হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়নে আ.লীগ প্রার্থী মোস্তফা জামান সোহেল নৌকা প্রতীক নিয়ে ৬ হাজার ৮৯৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী আব্দুল হাই ধানের শীষে ৪ হাজার ৯৯৯ ভোট পান। গড্ডিমারী ইউনিয়নে আ. লীগের প্রার্থী আতিয়ার রহমান ৮ হাজার ৪৭৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাপার প্রার্থী আনোয়ার হোসেন লাঙ্গল প্রতীকে ১ হাজার ১৬৬ ভোট পান। সিংঙ্গীমারী ইউনিয়নে আ. লীগ প্রার্থী মনোয়ার হোসেন দুলু নৌকা প্রতীক নিয়ে ৬ হাজার ২২৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাপার প্রার্থী এমজি মোস্তফা লাঙ্গল প্রতীকে ৪ হাজার ৬২৭ ভোট পান। ভেলাগুড়ি ইউনিয়নে আ.লীগের প্রার্থী মহিউল ইসলাম নৌকা প্রতীক নিয়ে ৪ হাজার ৮৩০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাপার প্রার্থী মইনুল আহম্মেদ মহি লাঙ্গল প্রতীকে ৪ হাজার ৪৫৫ ভোট পেয়েছেন।সিন্দুর্না ইউনিয়নে আ.লীগের নুরুল আমিন ৩ হাজার ৫১৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খতিব উদ্দিন আনারস প্রতীকে ৩ হাজার ২৬৫ ভোট পান।ফকিরপাড়া ইউনিয়নে আ. লীগের প্রার্থী নুরল ইসলাম নৌকা প্রতীক নিয়ে ৩ হাজার ৮৭৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রার্থী হাসান আলী ঘোড়া প্রতীকে ২ হাজার ১৩ ভোট পান।পাটিকাপাড়া ইউনিয়নে আ. লীগের প্রার্থী সফিউল আলম রোকন নৌকা প্রতীক নিয়ে ২ হাজার ৭১৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম বিএনপির প্রার্থী সফিয়ার রহমান ধানের শীষ প্রতীকে ২ হাজার ৩৪২ ভোট পান।নওদাবাস ইউনিয়নে আ‘লীগের প্রার্থী অশ্বনী কুমার বসুনিয়া নৌকা প্রতীক নিয়ে ৫ হাজার ৯ শত ৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী বিএনপির প্রার্থী ছোলেমান গণি ধানের শীষে প্রতীকে ৩ হাজার ৮ শত ৩০ ভোট পান।টংভাঙ্গা ইউনিয়নে আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আতিয়ার রহমান আতি আনারস প্রতীক নিয়ে ৬ হাজার ২০৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী আ.লীগ প্রার্থী সেলিম হোসেন নৌকা প্রতীকে ৬ হাজার ৭৭ ভোট পান। সানিয়াজান ইউনিয়নে আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল গফুর আনারস প্রতীক নিয়ে ৪ হাজার ৮২২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আ. লীগ প্রার্থী হাশেম তালুকদার ৩ হাজার ৪১৯ ভোট পান। ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নে আ. লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রেজ্জাকুল ইসলাম কায়েদ আনারস প্রতীক নিয়ে ৪ হাজার ৪০৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আ. লীগ প্রার্থী মশিউর রহমান নৌকা প্রতীকে ৩ হাজার ৭৭ ভোট পান। পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়নে আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী কামাল হোসেন আনারস প্রতীক নিয়ে ৩ হাজার ৩৮৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আ.লীগ প্রার্থী হাবিবুর রহমান নৌকা প্রতীকে ২ হাজার ৪৯৭ ভোট পান।কুড়িগ্রাম থেকে নাজমুল ইসলাম জানান, কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার ৭টি ও চিলমারী উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থীর ফলাফল বেসরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, ভূরুঙ্গামারীর ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে আওয়ামী লীগের জয়মনিরহাট ইউনিয়নে জালাল উদ্দিন, আন্ধারীরঝাড় ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী রাজু আহমেদ খোকন। ভূরঙ্গামারী ইউনিয়নে জাতীয় পার্টির এটিএম ফজলুল হক, বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নে ডা. শাহাজাহান আলী মোল্লা ও পাইকেরছড়া ইউনিয়নে আব্দুর রাজ্জাক এবং তিলাই ইউনিয়নে বিএনপির ফরিদুল হক শাহিন ও বলদিয়া ইউনিয়নে মোখলেছুর রহমান বিজয়ী হোন।অপরদিকে, চিলামারীর ৬টি ইউনিয়নের ৫টিতে আওয়ামী লীগ এবং ১টিতে বিএনপির বিজয় হয়েছে। বিজয়ীরা হলেন, অস্টমির চর ইউনিয়নে আবু তালেব ফকির, রমনা ইউনিয়নে আজগর আলী, রাণীগঞ্জ ইউনিয়নে মঞ্জুরুল ইসলাম মজনু, থানাহাট ইউনিয়নে আব্দুর রাজ্জাক মিলন, চিলমারী ইউনিয়নে গয়ছল হক মন্ডল এবং নয়ারহাট ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী আবু হানিফা। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন জেলার দু’টি উপজেলায় ১৩টি ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজয়ীদের নাম নিশ্চিত করেন।ঠাকুগাঁও থেকে রবিউল এহসান রিপন জানান, ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীংশকৈল ও হরিপুর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মধ্যে ৭টি আওয়ামী লীগ প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া ৩টি ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। একটিতে এখনো ফলাফল পাওয়া যায়নি। এসব ইউনিয়নে বিএনপির ভরাডুবি হয়েছে।দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে বৃহস্পতিবার জেলার রাণীংশকৈল উপজেলার ৫ ও হরিপুরের ৬টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে গত ২৯ মার্চ বিভিন্ন কারণে রাণীংশকৈল উপজেলার বাচোর, হোসেনগাঁও ও নন্দুয়ার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন।ভোট গণনা শেষে জানা যায়, রাণীংশকৈল উপজেলার ৫টির মধ্যে আওয়ামী লীগ ৩টি ও স্বতন্ত্র ২ জন প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। বিজয়ী আওয়ামী লীগের তিন প্রার্থী হলেন, ১নং ধর্মগড় ইউনিয়নে সফিকুল ইসলাম মুকুল, ৪নং লেহেম্বা ইউনিয়নে আবুল কামাল আজাদ, ও ৬ নং কাশিপুর ইউনিয়নে আব্দুর রউফ। এছাড়া ২নং নেকমরদ ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী এনামুল হক ও ৭নং রাতোরে আব্দুর রহিম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। অপর দিকে, হরিপুরের ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪টিতে আওয়ামী লীগের প্রাথী বিজয়ী হয়েছেন। ১টিতে স্বতন্ত্র। আর একটিতে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ফলাফল পাওয়া যায়নি।বিজয়ী আওয়ামী লীগের ৪ প্রার্থী হলেন, ১নং গেদুরা আব্দুল হামিদ, ২নং আমগাঁও শামসুল হুদা তালুকদার, ৪নং ডাঙ্গীপাড়া মনিরুজ্জামান মনি, ৬নং ভাতুড়িয়া শাহজাহান আলী। ৫নং হরিপুর ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছে।উল্লেখ্য, হরিপুর উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন পরিষদের ভোট কেন্দ্র ৫৪টি। মোট ভোটার সংখ্যা ৯৭ হাজার ৪০১ জন। এখানে চেয়ারম্যান পদে ২৭ জন, কাউন্সিলর পদে ২৩১ জন ও মহিলা সংরক্ষিত ৬৯ জন নির্বাচনে অংশ নেন। রাণীংশকৈল উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ৪৫টি ভোট কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ৮৪ হাজার ৪৪৫ জন। এখানে চেয়ারম্যান পদে ১৮ জন, কাউন্সিলর পদে ১৪৮ জন ও মহিলা সংরক্ষিত আসনে ৬১ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।পঞ্চগড় থেকে সফিকুল ইসলাম জানান, পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ৩ জন এবং আ. লীগের ৩ বিদ্রোহী প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার পর বেসরকারিভাবে এসব ফলাফল জানা যায়।বোদা সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন প্রধান নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আবু বক্কর ছিদ্দিক। চন্দনবাড়ি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির প্রার্থী মমতাজুল করিম জাহাঙ্গীর। সাকোয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সায়েদ জাহাঙ্গীর হাসান সবুজ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মোজাফফর হোসেন। পাঁচপীর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী হুমায়ুন কবির প্রধান চেয়ারম্যান হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী খয়রুল আলম খান। ঝলই শালশিরি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ আবুল হোসেন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির মো. সফিকুল আলম। এছাড়া বেংহারি বনগ্রাম ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের আবুল কালাম আজাদ আবু চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির মো. আলতাফ হোসেন।এমএএস/আরআইপি