দেশজুড়ে

৩ ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থী নিয়ে সিলেটে শক্ত অবস্থানে জাপা

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এবারের সমীকরণটা একটু ভিন্ন। অতীতে বিদ্রোহী হলে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত থাকলেও এবার আওয়ামী লীগ থেকে স্বতন্ত্র নির্বাচন উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। তাই নৌকার টিকিট পেলেও কঠিন সমীকরণে পড়েছেন ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা।

অপরদিকে অনেকটাই ফুরফুরে জাতীয় পার্টি। বিদ্রোহী হওয়ার সম্ভাবনা নেই, একই সঙ্গে সিলেটে তিন হেভিওয়েট প্রার্থীকে দলীয় মনোনয়ন দিয়ে এবার শক্ত অবস্থানে দলটি। এ দুই কারণে আশার আলো দেখছেন মহানগর ও জেলার নেতাকর্মীরা।

সোমবার (২৭ নভেম্বর) বিকেলে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সিলেটের ছয়টি আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন দলটির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু।

সিলেট-১ আসনে নজরুল ইসলাম বাবুল, সিলেট-২ আসনে মকসুদ ইবনে আজিজ লামা, সিলেট-৩ আসনে আতিকুর রহমান আতিক, সিলেট-৪ আসনে এটি এম তাজ রহমান, সিলেট-৫ আসনে সাব্বির আহমদ ও সিলেট-৬ আসনে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেটের ছয়টি আসনেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছে। তবে জোটবদ্ধ নির্বাচন হলে ছয়টি আসনের মধ্যে তিনটিতে প্রার্থিতা চাইবে এমন পরিকল্পনা আছে দলটির। সেই পরিকল্পনা থেকে ছয়টি আসনের মধ্যে তিনটিতে শক্ত প্রার্থীকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

সিলেট জাতীয় পার্টির মধ্যে এ তিনজনই ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থী হিসেবে পরিচিত। তারা হলেন, সিলেট-২ আসনের মকসুদ ইবনে আজিজ লামা, সিলেট-৩ আসনের আতিকুর রহমান আতিক, সিলেট-৬ আসনের মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

জাতীয় পার্টির উপদেষ্টা মকসুদ ইবনে আজিজ লামা এর আগে দুবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন। ১৯৮৮ সালে চতুর্থ ও ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ আসনে (বিশ্বনাথ, বালাগঞ্জ ও ওসমানীননগের একাংশ) জাতীয় পার্টির নির্বাচিত হন।

সিলেট-৩ আসনের (দক্ষিণসুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও ওসমানীনগরের একাংশ) প্রার্থী জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য আতিকুর রহমান আতিক সর্বশেষ ওই আসনের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেছেন। নিজ এলাকায় আতিকের ব্যাপক জনপ্রিয়তা আছে।

এছাড়া সিলেট-৬ আসনে (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) মনোনয়ন পাওয়া মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ২০১৪ সালে সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ওই আসনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টিকে ছাড় দেওয়ায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন সেলিম।

তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জোটগত নয়, এককভাবে নির্বাচন করাই জাতীয় পার্টির জন্য মঙ্গল হবে। এর কারণ হিসেবে দুটি বিষয় উল্লেখ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিলেট জেলা জাতীয় পার্টির এক নেতা দুই কারণের মধ্যে প্রথম কারণ হিসেবে বলছেন, এবার উন্মুক্ত মনোনয়ন প্রক্রিয়া হওয়ায় সব আসনেই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ থেকে একাধিক প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা আছে। এ সম্ভাবনা যদি বাস্তব হয় তাহলে ভোট ভাগাভাগি হবে। এতে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবেন জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা।

দ্বিতীয় যে কারণটি সবচেয়ে বেশি হতে পারে সেটি নীরব ভোট বিপ্লব। কারণ বিএনপি ভোট বর্জন করলেও গোপনে বিএনপি সমর্থিত ভোটাররা জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের ভোট দিলে জয়ের জন্য এটি হতে পারে বড় একটি কারণ।

জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. উসমান আলী জাগো নিউজকে বলেন, দল থেকে যাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তারা সবাই হেভিওয়েট প্রার্থী। বিশেষ করে সিলেট-২, সিলেট-৪ ও সিলেট-৬ আসনের প্রার্থীর অবস্থান অনেক ভালো। অতীতে এ আসনগুলো থেকে ভালো ফলাফল এসেছে। আর সিলেট-৩ আসন তো এমনিতেই আমাদের ঘাঁটি। এখানে আমাদের বরাবরই শক্ত অবস্থান।

তিনি আরও বলেন, সিলেটের ছয়টি আসনেই আমরা এককভাবে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিয়েছি। সে লক্ষ্যেই আমাদের প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। যাদের মনোনীত করা হয়েছে তারা বিজয় আনার মতো যোগ্যতা রাখেন। তবে জোটবদ্ধ নির্বাচন হলে আমরা আওয়ামী লীগের কাছে সিলেট-২, সিলেট-৪ ও সিলেট-৫ আসন চাইবো।

জাপার কেন্দ্রীয় এ নেতা বলেন, জাপা থেকে কেউ বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করবে না। আমার দলীয় কমান্ডের বাইরে কেউ চলি না।

এসজে/এমএস