খেলাধুলা

সেই বলটি কি আসলেই হারিয়েছিল?

১৯তম ওভারের পঞ্চম বল। বোলারের মাথার ওপর দিয়ে হাওয়ায় ভাসিয়ে দিলেন আন্দ্রে রাসেল। বল গিয়ে পড়লো গ্যালারিতে দর্শকদের মাঝে। এরপর আর বলটি খুঁজে পাওয়া গেল না; কিন্তু কেন? এমন একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট, তাও আবার আইসিসি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল। কয়েক ডজন টিভি ক্যামেরার পাশাপাশি রয়েছে অসংখ্য সিসিটিভি ক্যামেরা। তারপরও বল হারিয়ে যেতে পারে? এ তো রীতিমত অসম্ভব ব্যাপার। তবুও হারিয়ে গেছে রবীন্দ্র জাদেজার করা বলটি। শেষ পর্যন্ত নতুন বলই আনতে হয় আম্পায়ারদের।সারা বিশ্বের কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর প্রশ্ন, ওই বলটি কি আসলেই হারিয়েছিল, নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে বলটি বদলানো হলো? এর আগে ১৩টি বিশাল ছক্কা হওয়ার পরও বল হারালো না! হঠাৎ ওই সময়ে কেন? এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে নানা গুঞ্জন। অনেকেরই ধারণা, ওই সময় ভারত ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছেই। তবুও বল বদলিয়ে যদি বাড়তি কোন সুবিধা আদায় করা যায়!  পুরোনো বলে সুইমের সুতা গ্রীপ করতে সমস্যা হয়। যার প্রমাণ হিসেবে এর আগে ভারতের বেশ কয়েকজন বোলার কয়েকটি হাই ফুলটসও দিয়েছিলেন। সেক্ষেত্রে স্লোয়ার এবং ইয়র্কার দেয়া একটু কঠিনই। বিশেষ করে এ সময় কাটার কাজ করে না। এ সময় ব্যাটে বলে ভালো সংযোগ ঘটলেই চার কিংবা ছক্কা হয়ে যায় খুব সহজে। পক্ষান্তরে নতুন বলে সুইং বেশি হয়। ফলে মিস হিট হওয়ারও সুযোগ বেশি থাকে।সাধারণত চাইলেও ওই সময় বল পরিবর্তন করা যায় না। যদি না অনাকাংখিত কিছু ঘটে থাকে। তাও তখন চলছিল ১৯ ওভারের খেলা। তাহলে ওই সময় কীভাবে বল পরিবর্তণ করা যাবে? এ চিন্তা থেকেই গ্যালারিতে বল হারানোর নাটক তৈরী করা হয়েছে কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। তবে নিয়মানুযায়ী ওই সময় ১৯ ওভারের পুরনো বলই আনার কথা। সামাজিক যোগাযোগ মধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে, আসলেই ওই সময় ১৯ ওভার ব্যবহার করা কোন বল আনা হয়েছিল নাকি ১০-১২ ওভার ব্যবহার করা কোন বলকে ১৯ওভার পুরনো বলে চালিয়ে দেওয়া হয়েছিল?তবে সকল চেষ্টাই বৃথা গিয়েছে। শেষ পর্যন্ত হার মানতে বাধ্য হয়েছে ভারত। লেন্ডল সিমন্স ও আন্দ্রে রাসেলের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে জয় নিয়েই ফাইনালের টিকিট কাটে ক্যারিবিয়ানরা।  আরটি/আইএইচএস/পিআর