দেশজুড়ে

লক্ষ্মীপুরে দুই বোনকে গণধর্ষণ অতঃপর মামলা

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজছাত্রী তনু হত্যাকে কেন্দ্র করে সারাদেশে প্রতিবাদের ঝড় বাইছে ঠিক সেই সময়ে লক্ষ্মীপুরে দুই বোনকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গণধর্ষণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করেছেন তাদের মা।মামলার আসামিরা হলেন, উপজেলার তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা মৃত ইস্রাফিলের ছেলে মো. খোকন, একই এলাকার  মৃত সোলেমানের ছেলে মো. সিরাজ, ইসামাইল হোসেনের ছেলে মো. ইউছুফ, মৃত হোসেন আহাম্মদের ছেলে আবদুল করিম এবং অজ্ঞাত আরো এক ব্যক্তি।এদিকে, শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে দুই বোনের বয়স নির্ধারণ ও ধর্ষণের বিষয়ে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়েছে। পুলিশ সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি। শনিবার কমলনগর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২২ ধারায় ক্ষতিগ্রস্তদের জবানবন্দি দেয়ার কথা রয়েছে।পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাতে উপজেলার তোরাবগঞ্জ এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে দুই বোন গণধর্ষণের শিকার হন। এ ঘটনার পর স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) আবদুর রহিম দুলাল মাঝি বিষয়টি মিমাংসা করার আশ্বাস দিয়ে মামলা করতে দেয়নি বলে পরিবারের অভিযোগ।ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও পুলিশ জানায়, তোরাবগঞ্জ গ্রামের এক দিনমজুরের মেয়ে তারা। ওই দিনমজুর ১২ বছর আগে মারা যান। এরপর তার স্ত্রী দুই ছেলে, তিন মেয়ে তিনি অন্যের বাড়ির কাজ করে জীবনযাপন করে আসছেন। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে একই এলাকার খোকন ওই বাড়িতে আসে। এসময় তিনি (খোকন) বিধবার বড় মেয়েকে (১২) ঘর থেকে বের হতে ডাকতে থাকেন। সে একা একা ঘর থেকে বের হবে না বললে, ছোট বোনকে (১৪) সঙ্গে আনতে বলে। দুই বোন ঘর বের থেকে উঠানে আসলে ৪/৫ মিলে তাদের মুখ বেঁধে পার্শ্ববর্তী একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। ওই বাড়ির পুকুরপাড়ে রাতভর জোরপূর্বক তাদের ধর্ষণ করা হয়।ভিকটিম বড় বোন জানায়, খোকন তাকে পছন্দ করতো। ঘটনার সময় ঘর থেকে ডেকে বের করা হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মুখ বেঁধে তাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তারা গলায় ধারালো ছুরি ধরে হত্যার ভয় দেখিয়ে তাদের ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় দোষীদের শাস্তি দাবি করেন তিনি।ভিকটিমের মা জানান, রাতে আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। বখাটে খোকন ও সিরাজসহ কয়েকজন মিলে দুই মেয়েকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। সকালে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পার্শ্ববর্তী বাগান থেকে তাদের অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করি। বিষয়টি স্থানীয় মেম্বর আবদুর রহিম দুলাল মাঝিকে জানালে তিনি মিমাংসা করে দেয়ার আশ্বাস দেন। এসময় তিনি মামলা করতে দেয়নি।স্থানীয় লোকজন জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা মেম্বর আবদুর রহিম দুলাল মাঝির চাচাতো ভাই ও নিকট আত্মীয়। যে কারণে মিমাংসার নামে সময়ক্ষেপনণ করে ধর্ষণের আলামত নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে।তবে তোরাবগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (মেম্বার) আবদুর রহিম দুলাল মাঝি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি ধর্ষিতাদের উপকার করতে চেষ্টা করেছি, ক্ষতি নয়। লোকজন মিথ্যা কথা বলে বেড়াচ্ছে।ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত খোকন ও সিরাজসহ অন্যরা গা-ঢাকা দেয়ায় তাদের বক্তব্য জানা যায়নি।মামলা একটির তদন্ত কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল বলেন, অভিযোগের বিষয়ে ঘটনাস্থল তদন্ত করা হয়েছে। দুই বোনের বয়স নির্ধারণ ও ধর্ষণের বিষয়ে সদর হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। এ ঘটনায় শনিবার কমলনগর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২২ ধারায় ক্ষতিগ্রস্তরা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দি দেবেন।সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার আনোয়ার হোসেন জানান, দুই বোনের ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তারা ধর্ষণের শিকার হওয়ার আলামত পাওয়া গেছে।এ ব্যাপারে কমলনগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির আহাম্মদ জানান, এ ঘটনায় আলাদা দুইটি মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতার করতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।কাজল কায়েস/এআরএ/পিআর