নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ সিআইপি এবং আসনটিতে বর্তমান সংসদ সদস্য ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জাফর আলমের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
সংসদীয় আসনটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান ও কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) এই ব্যাখ্যা তলব করে দুই প্রার্থীকে পৃথক নোটিশ দেন।
নোটিশে বলা হয়েছে, একটি দৈনিকে বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সালাহউদ্দিন আহমদ সিআইপি কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়ে কক্সবাজারের চকরিয়ার হারবাংস্থ কক্সবাজার-চট্টগ্রাম হাইওয়ের পাশে ইনানী রিসোর্ট থেকে বিশাল মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা করে চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনালে যান। সেখানে সালাহউদ্দিন আহমদ জনসমাবেশ করেন। সমাবেশে তিনি এবং তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা বক্তব্য দিয়ে নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালান। যা ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল।
নোটিশে আরও বলা হয়, এ ধরনের কাজ সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা-২০০৮ এর ৬(খ), ৬(গ), ৮(ক) এবং ১২ এর সুস্পষ্ট লংঘন। এ বিষয়ে অনুসন্ধান করে নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন পাঠাতে অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ অবস্থায় প্রার্থী সালাহউদ্দিনের কোনো বক্তব্য থাকলে তা আগামী ৩ ডিসেম্বর দুপুর ২টার মধ্যে অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান তথা কক্সবাজারের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারকের কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে বা উপযুক্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে লিখিত বক্তব্য দিতে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ আইন-১৯৭২ এর ১৯-এ (৫) (এ) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, কক্সবাজার-১ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জাফর আলমকে বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে পৃথক নোটিশ দিয়েছেন নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান।
নোটিশে বলা হয়েছে, একাধিক পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে পাওয়া ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে গত ২৭ নভেম্বর প্রাপ্ত সংবাদে জানা গেছে, কক্সবাজারের চকরিয়া থানা রাস্তার মাথায় কক্সবাজার-চট্টগ্রাম হাইওয়ের পশ্চিম পাশে সিস্টেম চকরিয়া কমপ্লেক্সের সামনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বিশাল জনসমাবেশ করেন জাফর আলম। তিনি নিজেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘোষণা করে নির্বাচনী প্রচারণা চালান। সমাবেশে বিশাল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত হওয়ায় কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হয়। সমাবেশে জাফর আলমের ছেলে তানভীর আহমদ সিদ্দিকী তুহিনসহ অন্যরা উসকানিমূলক ও মানহানিকর বক্তব্য রাখেন।
অনুসন্ধান কমিটির নোটিশে বলা হয়, এ ধরনের কাজ সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০০৮ এর ৬(খ), ৬(গ), ৮(ক) এবং ১২ এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
এ অবস্থায় জাফর আলমের কোনো বক্তব্য থাকলে তা আগামী ৩ ডিসেম্বর বেলা ১১টার মধ্যে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান তথা কক্সবাজারের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারকের কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে বা উপযুক্ত কোনো প্রতিনিধির মাধ্যমে লিখিত বক্তব্য দিতে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ আইন-১৯৭২ এর ১৯-এ (৫) (এ) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর কক্সবাজার জেলার কোনো সংসদীয় আসনে এটিই প্রথম আচরণবিধি ভঙ্গের বিষয়ে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি ব্যাখ্যা তলব করলো।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধিমালায় বলা হয়েছে, কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কিংবা এর মনোনীত প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা তাদের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি ভোটগ্রহণের জন্য নির্ধারিত দিনের তিন সপ্তাহ সময়ের আগে কোনো প্রকার নির্বাচনী প্রচার চালাতে পারবেন না।
ভোটের ৫২ দিন আগে গত ১৫ নভেম্বর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তফসিল অনুযায়ী, ভোট হবে আগামী ৭ জানুয়ারি। এছাড়া মনোনয়নপত্র জমার শেষ তারিখ ছিল ৩০ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৭ ডিসেম্বর। প্রতীক বরাদ্দ ১৮ ডিসেম্বর। ১৮ ডিসেম্বর থেকে ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ভোটের প্রচার চালাতে পারবেন প্রার্থীরা।
জাতীয় নির্বাচনের আচরণবিধিমালা অনুসারে, কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কিংবা তাদের মনোনীত প্রার্থী বা তাদের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি কোনো ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল বা অন্য কোনো যান্ত্রিক যানবাহন নিয়ে মিছিল বের করতে পারবেন না। মহড়াও করতে পারবেন না।
সায়ীদ আলমগীর/এমকেআর