অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) রাজধানীতে অবস্থানরত অস্থায়ী বাসিন্দা বা ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছেন দেশের গণমাধ্যমের কর্তারা। তবে এই তথ্য দেয়ার কারণে কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হয় সেই দিকে লক্ষ্য রাখার পরামর্শ দেন তারা। শনিবার রাজধানীর আমারি হোটেলে ‘জননিরাপত্তা বিধানে গণমাধ্যম ও পুলিশের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সাংবাদিকরা এই সমর্থন জানান। সিনিয়র সাংবাদিক নাইমুল ইসলাম খান বলেন, তথ্য সংগ্রহের ফর্মটি আমি গবেষণা করে দেখেছি। এই তথ্যের সঙ্গে জাতীয় পরিচয় পত্রের তথ্যের কোনো মিল নেই। এসব তথ্য না থাকলে পুলিশের কাজ কঠিন হবে। আমি মনে করি, নিরাপত্তার স্বার্থে নাগরিকের উচিত পুলিশকে এসব তথ্য সরবরাহ করা। পুলিশের এই উদ্যোগে আমি পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছি। এসময় উপস্থিত সাংবাদিক আবেদ খান বলেন, আমি উত্তরায় থাকি। এটি একটি সেনসিটিভ এলাকা। এখানে প্রায়ই জঙ্গিদের উৎপাত টের পাওয়া যায়। এ ধরণের সেনসিটিভ জায়গায় ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজন রয়েছে। আমাদের উচিত আন্তরিকতার সঙ্গে পুলিশকে তথ্য সরবরাহ করা। এদিকে ভাড়াটিয়ার তথ্য সংগ্রহ না করে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য যাচাই বাছাইয়ের কথা বলেন অনেকে। উপস্থিত সাংবাদিক মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত পুলিশকে মানুষ পুরোপুরি বিশ্বাস করে উঠতে না পারছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তথ্য আদায়ের প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা উচিত। বরং জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যকে যাচাই-বাছাই করলে বেশি কাজ হবে। মানবজমিনের সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, এই উদ্যোগটি নেয়ার আগে পুলিশের গ্রাউন্ড ওয়ার্ক করার প্রয়োজন ছিল। ভাড়াটিয়ার তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত যুগ্ম কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায় বলেন, সংগৃহীত তথ্য গোপন রাখা হবে এবং শুধুমাত্র অপরাধ প্রতিরোধের কাজে ব্যবহৃত হবে। এই তথ্য যেন অন্য কেউ পেতে না পারে সে জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশনা দেয়া আছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি তদারকি করছেন। মতবিনিময় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান, ডা. অরুপ রতন চৌধুরী, মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, সাবেক তথ্য কমিশনার সাদেকা হালিম, নির্বাচন পর্যবেক্ষক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ, সৈয়দ আবুল মকসুদ, ফকির আলমগীর, নিরাপত্তা বিশ্লেষক মোহাম্মদ আলী শিকদার, বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জমানা মিয়া প্রমুখ। এআর/এসকেডি/এবিএস