রাজনীতি

ব্যর্থ হয়েই নির্বাচন বর্জন করতে চায় বিএনপি

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, ‘ব্যর্থ হয়েই নির্বাচন বর্জন করতে চাইছে বিএনপি। নির্বাচনে বিএনপি জনগণের কাছে যেতে পারেনি। এ কারণেই চরম ভরাডুবি হয়েছে। তাই লজ্জার হাত থেকে বাঁচতে তারা এখন নির্বাচন থেকে বেরোনোর চিন্তা করছে।’আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে শনিবার দুপুরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নেরে জবাবে এ কথা বলেন তিনি।হানিফ বলেন, ‘কেউ যদি ব্যর্থ হয়ে নির্বাচন বর্জন করতে চায় তাহলে তো অন্য কারো কিছু বলার থাকে না। তবে বিএনপিকে সুস্থ রাজনৈতিক ধারায় ফিরে আসতে হলে এ ব্যর্থতা মেনে নিতে হবে।’তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে এখানে প্রতিটি জনগণ ও রাজনৈতিক দলের অধিকার আছে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ও বর্জনের। সে হিসেবে নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে যে কেউই। হঠাৎ বিএনপি নির্বাচন বর্জনের কথা ভাবছে কেন? কারণ, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জনগণ তাদের দুঃশাসনে তাদের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। এরপর ২০০৯ সালের পর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, আমরা এখন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছি। অন্যদিকে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করে যে ভুল করেছিল তার জন্য জনগণের ওপর খড়্গ চালিয়েছিল। জ্বালাও-পোড়াও করেছিল, মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছিল। সে কারণে জনগণ বিএনপির সঙ্গে নেই।’আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, ‘উন্নয়নের কারণে বর্তমানে জনগণ আমাদের প্রতি আস্থাশীল। যুক্তরাষ্ট্রের একটি জরিপেও দেখা গেছে যে, ৮০ ভাগ মানুষ শেখ হাসিনার সরকারের সুশাসনের প্রতি আস্থাশীল। ভোটে তো তার প্রতিফলন ঘটবে এটাই স্বাভাবিক।’ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া বার্নিকাট উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন- একজন সাংবাদিক বিষয়টি তুলে ধরলে গণমাধ্যমের প্রতিই ক্ষোভ দেখান হানিফ।তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষের একটা মারাত্মক প্রবণতা আছে, সেটা হলো বিদেশি কোনো মানুষ দেখলেই আমরা মনে করি সে সাক্ষাৎ ভগবান। আমাদের দেশের ছোটখাটো অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশিদের কাছে জিজ্ঞেস করার কোনো যৌক্তিকতা আছে?’নির্বাচনের সহিসংতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আজকে গোটা বিশ্বে নানা ধরনের অস্থিরতা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিনিয়ত হত্যার ঘটনা ঘটছে, এর মানে কি সে দেশের সরকার ব্যর্থ? আসলে বিভিন্ন স্থানে একাধিক মেম্বার প্রার্থী থাকার কারণে দেখা যায় সামাজিক, গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বের কারণে কিছু সহিংসতা হচ্ছে। এ সব কীভাবে এড়ানো যায় সে পদক্ষেপ নিতে হবে। এ ধরনের ঘটনা যেন ভবিষতে না ঘটে সে জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমরা প্রশাসনকে অনুরোধ করেছি।’হানিফ বলেন, ‘আমরা এ ধরনের সহিংসতা চাই না। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।’এরআগে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের কর্মসূচি উপলক্ষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সভাপতিত্বে একই জায়গায় যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন- দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, কৃষি ও সমবায় সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, আইন বিষয় সম্পাদক আব্দুল মতিন খসরু প্রমুখ।এএসএস/এনএফ/এবিএস