আইন-আদালত

নিজামীর রিভিউ শুনানি পেছানোর আবেদন মঞ্জুর

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর দণ্ড থেকে খালাস চেয়ে করা রিভিউ শুনানি পেছানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আপিল বিভাগ। আগামী এক সপ্তাহ পর শুনানির দিন ঠিক করবেন আপিল বিভাগ। রোববার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বে তিন সদস্যের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন। অন্য বিচারপতিরা হলেন- বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা ও বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। রিভিউ শুনানির দিন ঠিক করার জন্য আজকের (রোববার) কার্যতালিকার ১৬ নম্বরে ছিল নিজামীর আবেদন। নিজামীর আইনজীবী এএসএম শাহজাহানের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নিজামীর রিভিউ শুনানির তারিখ ঠিক করার জন্য সময় আবেদন মঞ্জুর করলে বিচারকরা এই আদেশ দেন।জানা যায়, নিজামীর রিভিউ আবেদনে ৬ সপ্তাহ সময় চেয়েছিলেন তার আইনজীবীরা। সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেনের ব্যাক্তিগত অসুবিধার কারণে সময় চাওয়া হয়। ওই আবেদন গ্রহণ করে এই আদেশ দেন।এর আগে গত ২৯ মার্চ সকালে সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় তার আইনজীবীরা রিভিউ আবেদন করেন আইনজীবীরা।রিভিউতে ৭০ পৃষ্ঠার মূল রিভিউর আবেদনের সঙ্গে মোট ২২৯ পৃষ্ঠার নথি পত্রে তার দণ্ড থেকে খালাস চেয়ে ৪৬ টি (গ্রাইন্ড) যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। রিভিউ আবেদনে অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড হলেন, আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুলর আবেদীন তুহিন।রিভিউ শুনানি করবেন সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন ও এসএম শাহজাহান। তাদেরকে সহযোগিতা করবেন ব্যারিস্টার নাজিব মোমমন ও এহসান এ সিদ্দিকী।নিয়ম অনুযায়ী, রিভিউ নিষ্পত্তির আগে তার দণ্ড কার্যকর করা যাবে না। আর রিভিউ খারিজ হয়ে গেলে সেই রায়ের অনুলিপি কারাগারে যাবে এবং কারা কর্তৃপক্ষ সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আসামির ফাঁসি কার্যকর করবে।এর আগে গত ১৫ মার্চ নিজামীর আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আইন অনুযায়ী পরোয়ানা শোনার পর থেকে নিজামী আপিল বিভাগের চূড়ান্ত পূর্ণাঙ্গ রায়ের রিভিউ আবেদন করতে পারবেন ১৫ দিনের মধ্যে, যার শেষ দিন ছিল ৩০ মার্চ।গত ৬ জানুয়ারি বুদ্ধিজীবী হত্যার পরিকল্পনাকারী ও উস্কানিদাতাসহ মানবতাবিরোধী তিন অপরাধের দায়ে  নিজামীর মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখেন আপিলে। ওই দিন সংক্ষিপ্ত রায় দেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ। অন্য বিচারপতিরা হলেন- বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।উল্লেখ্য, বুদ্ধিজীবী নিধনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর নিজামীকে মৃত্যুদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল। এফএইচ/এএইচ/আরএস/এমএস