‘আমার জামাই নির্দোষগো, আমার জামাইয়ে তো কোনো দোষ করছে না, তাহলে কেন এভাবে তার মৃত্যু হলো?’ আহাজারি করে কথাগুলো বলছিলেন গাজীপুরে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনসহ পাঁচ বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় নিহত আসলাম মিয়ার (৩০) স্ত্রী ফাতেমা খাতুন। এ সময় স্বামীর মরদেহ দ্রুত হস্তান্তরের দাবিও জানান তিনি।
ফাতেমা খাতুন বলেন, আমার দুই ছেলে, এক মেয়ে। ওদের বাবা তো ট্রেন দুর্ঘটনায় মারা গেলো। এখন সন্তানদের কী হবে?
বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) গাজীপুরে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনসহ পাঁচ বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় একজন নিহত ও অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। নিহত আসলাম মিয়ার বাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায়।
আসলাম মিয়া উপজেলার সালটিয়া ইউনিয়নের রৌহা গ্রামের মৃত মোছলেম উদ্দিন ও হোসনা খাতুনের ছেলে। তিনি পেশায় সবজি ব্যবসায়ী। স্ত্রী ফাতেমা খাতুন, দুই ছেলে শুভ (১১), আবু রায়হান (২) ও এক মেয়ে আরিফা (৮) এবং বৃদ্ধ মা হোসনা খাতুনকে নিয়ে সংসার ছিল তার।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে শালটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল হক জাগো নিউজকে বলেন, আসলাম মিয়া পেশায় সবজি বিক্রেতা। প্রতিদিনই গফরগাঁওয়ের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সবজি কিনে ঢাকায় বিক্রি করতেন। প্রায় প্রতিদিনই কাঁচামাল নিয়ে ট্রেনে যাতায়াত করতেন। আজও সবজি নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিলেন তিনি। পথিমধ্য গাজীপুরের ভাওয়াল রেল স্টেশনে ভোর ৪টার দিকে ট্রেনের ইঞ্জিনসহ পাঁচটি বগি লাইনচ্যুত হলে আসলাম ঘটনাস্থলেই মারা যান।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আসলাম মিয়া শাক-সবজি, মুরগি, ডিম, কবুতরের বাচ্চাসহ ১৫ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে ট্রেনের ইঞ্জিনে চড়ে গফরগাঁও থেকে ঢাকাগামী মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেক্স ট্রেনে যাত্রা করেন। গাজীপুরের ভাওয়াল রেলস্টেশন এলাকায় ইঞ্জিনসহ বগি লাইনচ্যুত হলে ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনি।
আসলামের মা হোসনা খাতুন বলেন, ‘আমার বাবা লাশ হয়ে গেছে। আমার বাবাকে আমার কুলে (কোলে) আইনা দেন। আমার বাবাকে কেন মারলো, যারা মারলো তাদের বিচার চাই।’
প্রতিবেশী বাদল মিয়া বলেন, আসলাম খুব ভালো মানুষ ছিল। কাঁচামাল সবজির ব্যবসা করতো। ২০০১ সালে তার এক চাচা দুদু মিয়া রাজনৈতিক মামলার পর বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হয়ে যান। আজও তার হদিস মেলেনি। আজ আসলামের মৃত্যুতে এই পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেছে।
বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) ভোরে ভাওয়াল রেলস্টেশনে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনসহ পাঁচটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এসময় এক যাত্রী নিহতসহ সাতজন আহত হয়েছেন।
মঞ্জুরুল ইসলাম/এফএ/জেআইএম