বিশেষ প্রতিবেদন

বড় ভাইয়ের নির্দেশে নুরুল্লাহকে হিট করি : জুনায়েদ

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে মুখ খুলেছে জুনায়েদ। তার দাবি এক বড় ভাইয়ের নির্দেশে নুরুল্লাহকে হিট (পেটায়) করে সে। সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে সে জানায়, কথিত সেই বড় ভাই তাকে বাসা থেকে খবর পাঠিয়ে ধানমন্ডিতে নিয়ে আসে। তাকে নিয়ে হোটেলে নাস্তা খাওয়ানোর সময় নুরুল্লাহকে মারধরের নির্দেশ দেয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী- বড় ভাই বলেছিলেন, ‘মোটামুটি সাইজ করবি, কমও না আবার বেশিও না।’ তবে মারধর করার সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি বলে সে অনুতপ্ত। ধানমন্ডি থানা পুলিশের তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাগো নিউজকে এ তথ্য জানান। তারা বলেন, জুনায়েদের কাছ থেকে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এখন তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না। তবে তারা জুনায়েদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের সত্যতা খতিয়ে দেখছেন বলে জানান।জানা গেছে, জুনায়েদের সেই কথিত বড় ভাইকে গ্রেফতারের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। পুলিশ সূত্র জানায়, জুনায়েদ যে নুরুল্লাহর ওপর হামলা করেছে সে নুরুল্লাহর সঙ্গে তার পরিচয় মাত্র মাস ছয়েকের। কিন্তু কথিত ওই বড় ভাইয়ের সঙ্গে নুরুল্লাহর সম্পর্ক কয়েক বছরের। এক্ষেত্রে কি এমন ঘটনা ঘটেছিল যার কারণে নুরুল্লাহকে ‘সাইজ’ করার জন্য জুনায়েদকে বাসা থেকে ডেকে  আনিয়েছিল সেই বড়ভাই। জিজ্ঞাসাবাদে জুনায়েদ জানায়, ধানমন্ডি লেকে নুরুল্লাহকে মারধরের সময় কাছে না থাকলেও আধ কিলোমিটার দূরত্বে দাঁড়িয়েছিলেন ওই বড় ভাই। নুরুল্লাহকে মারধর করে চলে আসার পর সেই তাকে বাসা পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। মূলত নারীঘটিত কোনো কারণে নুরুল্লাহ ও কথিত বড় ভাইয়ের মধ্যে বিরোধের কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে তারা মনে করছেন। পুলিশ আবারো নুরুল্লাহর সঙ্গে কথা বলবে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি রাজধানীর ধানমন্ডির অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের এ লেভেলের ছাত্র নুরুল্লাহর ওপর উপর্যুপরি নির্যাতন চালিয়ে সেই দৃশ্য মোবাইল ক্যামেরায় ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়ে বহুল আলোচিত হয় জুনায়েদ। নুরুল্লাহর দায়ের করা মামলায় পলাতক ও পরবর্তীতে সাইবার ক্রাইম আদালতে আত্মসমর্পণ ও জামিন না পেয়ে জেলহাজতে যায় সে। ধানমন্ডি থানা পুলিশ তাকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব ইন্সপেক্টর নুরুল হকের কাছে অগ্রগতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তথ্য-উপাত্ত যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এর বেশি কিছু বলা যাচ্ছে না।এমইউ/এসএইচএস/আরআইপি