বগুড়ার শেরপুরে বোমা বিস্ফোরণে দুইজন নিহতের ঘটনায় জেএমবির সদস্য সিরাজগঞ্জের তরিকুল ইসলামের ছয় স্বজনকে আটক করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের জামুয়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ সুপার কার্যালয়ে নেয়া হয়। তারা হলেন, জেএমবির সদস্য তরিকুল ইসলামের বাবা মাও. আবু বক্কার সিদ্দিক (৭৮), তিন ভাই ইসলামী ব্যাংক উল্লাপাড়া শাখার সিনিয়র অফিসার সানাউলাহ (৪৪), স্থানীয় জামুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক লিয়াকত আলী, কৃষক বরকত উলাহ, বোন শাকেরা খাতুন ও ভাই আহসান হাবিবের স্ত্রী মাহবুবা খাতুন। এদের সঙ্গে আহসান হাবিবের দুই শিশু সন্তানও রয়েছে। ইসলামী ব্যাংক উল্লাপাড়া শাখার সিনিয়র অফিসার সানাউলাহ জানান, ৬ ভাইয়ের মধ্যে তরিকুল ইসলাম সবার ছোট। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার সময় সিরাজগঞ্জ আদালত চত্বরে বোমা হামলাকারী হিসাবে তরিকুলকে পুলিশ গ্রেফতার করেছিল। তিন বছর হাজত বাসের পর ২০০৯ সালে ওই মামলার রায়ে তিনি বেকসুর খালাস পান। এরপর তিনি আবারো মাদরাসায় পড়াশুনা শুরু করে। গত কোরবানির ঈদের পর থেকে পরিবারের সঙ্গে তরিকুলের কোনো যোগাযোগ নেই। তরিকুল নিখোঁজ হওয়ার পর সদর থানায় সাধারণ ডাইরিও করা হয়েছে। মেঝ ভাই আহসান হাবিব ঢাকায় সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি করেন। আর পঞ্চম ভাই কুদরত উলাহ বগুড়ার নজুমা মাদরাসায় চাকরিরত অবস্থায় বছর সাতেক আগে গলায় ফাঁস নেয়া অবস্থায় পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। স্থানীয়রা জানান, দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার আগে ও পরে জঙ্গি নেতা শায়খ আব্দুর রহমান এবং আতাউর রহমান সানি জামুয়া গ্রামে তরিকুল ইসলামের বাড়িতে আসা যাওয়া করতো।এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ জানান, বগুড়ার শেরপুরে বোমা বিস্ফোরণে যে দুইজন মারা গেছে তাদের মধ্যে সিরাজগঞ্জ সদরের জামুয়া গ্রামের জঙ্গি সদস্য তরিকুল ইসলাম রয়েছে। তার বিষয়ে আরো কোনো তথ্য উপাত্ত পাওয়া যায় কিনা, সেটি জানতে তার পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। বাদল ভৌমিক/এআরএ/পিআর