দেশজুড়ে

মুক্তি পেলেন অপহৃত ব্র্যাকের ২ কর্মকর্তা, পরিবারে খুশির বন্যা

অবশেষে দীর্ঘ ১৮ দিন আটক থাকার পর মুক্তি পেয়েছেন আফগানিস্তানে কর্মরত ব্র্যাকের বাংলাদেশি ২ কর্মকর্তা। এদের একজন পাবনা সদর উপজেলার সিরাজুল ইসলাম সুমন (৩৮) এবং অপরজন পাবনার ফরিদপুর উপজেলার ইঞ্জিনিয়ার হাজী শওকত আলী (৫০)। সোমবার ভোরে ছাড়া তারা পেয়েছেন। অপহৃত সিরাজুল ইসলাম সুমনের বড় ভাই আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের পরিচালক আব্দুল খালেক খান জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এছাড়া ব্র্যাকের পক্ষ থেকে সিনিয়র মিডিয়া ম্যানেজার মাহবুবুল আলম কবীরও বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সুমন পাবনা সদর উপজেলার দুবলিয়া পুরাতন পাড়া গ্রামের এজেম উদ্দিন খানের ছেলে ও হাজী শওকত আলী জেলার ফরিদপুর উপজেলার হাঙরাগাড়ি গ্রামের মৃত মোস্তাক হোসেন এর ছেলে। হাজী শওকতের পরিবার এখন ঢাকার উত্তরায় বসবাস করেন। তাদের উদ্ধার পাওয়ার খবরের পর তাদের পরিবার, আত্নীয়-স্বজনসহ তাদের এলাকার জনগণের মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে।   অপহৃত সিরাজুল ইসলাম সুমনের ভাই আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক এর পরিচালক আব্দুল খালেক খান জানান, সুমনের সঙ্গে তার বাবা (অব.) শিক্ষক এজেম উদ্দিন খান ও মা শাহনাজ পারভীন, স্ত্রী লতা খাতুন এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে সোমবার সকাল ৯টার দিকে মোবাইল ফোনে কথা হয়েছে। এ সময় সুমন জানিয়েছেন, সোমবার ভোরে তারা ছাড়া পেয়েছেন। এ সময় সংক্ষিপ্ত কথায় সুমন জানান, প্রথমদিকে তাদের চোখ বেঁধে একটু কষ্টে রাখা হয়েছিল। এছাড়া তাদের আর তেমন কোন নির্যাতন করা হয়নি। তিনি ও তার সহকর্মী ইঞ্জিনিয়ার হাজী শওকত আলী সুস্থ ও স্বাভাবিক আছেন বলে জানিয়েছেন। তারা এখন অধীর আগ্রহে দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন।  অপহৃত সুমনের বাবা (অব:) শিক্ষক এজেম উদ্দিন খান ও সিরাজুলের বৃদ্ধা মা শাহনাজ পারভীন সোমবার রাত ৯টার দিকে জাগো নিউজকে জানান, ‘আমরা আমাদের ছেলের উদ্ধারের খবর পেয়ে ও তার সঙ্গে কথা বলে কেমন আনন্দিত তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। আমরা মহান আল্লাহ তালার কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, ব্র্যাকের কর্ণধার ফজলে হাসান আবেদ, সাংবাদিকবৃন্দ, পাবনার জেলা প্রশাসক রেখা রানী বালোসহ দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’ ব্র্যাকের পক্ষ থেকে সিনিয়র মিডিয়া ম্যানেজার মাহবুবুল আলম কবীর জানান, অপহৃত ব্র্যাক পরিবারের দুই সদস্যকে উদ্ধারে ব্র্যাক কর্তৃপক্ষ সব কৌশলই অবলম্বন করেছিল। এ ঘটনায় সে দেশের পুলিশ অপহৃতদের ২ আফগান সহকর্মীকে জিজ্ঞাবাদের জন্য আটক করেছিল। সে ২জনের মধ্যে একজন ব্র্যাকের প্রকৌশলী মনসুর আদিল এবং অপরজন গাড়ির চালক। তিনি জানান, ব্র্যাক কর্তৃপক্ষ অপহৃতদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। এজন্য ব্র্যাক কর্তৃপক্ষ ব্র্যাকের এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক জালাল আহমেদকে বিশেষ এ্যাসাইনমেন্ট দিয়ে আফগানিস্তানে পাাঠয়েছিল। তিনি এর আগে আফগানিস্তানে ব্র্যাকের অপহৃত কয়েকজন কর্মীকে উদ্ধারে বিশেষ ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি জানান, ওই কর্মকর্তা সেখানকার ভাষা, কৃষ্টি, রীতি-নীতি, সংস্কৃতি ভাল বোঝেন। ওখানে অনেকের সঙ্গে তার ভাল সম্পর্ক রয়েছে। তিনি জানান, এবারও সফলতা এসেছে এতে পুরা ব্র্যাক পরিবার খুশি। তবে কোনো গোষ্ঠী তাদের অপহরণ করেছিল এসব বিষয়ে বিস্তারিত খবর পাওয়ার পর জানান হবে। উল্লেখ্য, ১৭ মার্চ বৃহস্পতিবার বিকেলে আফগানিস্তানের কুন্দুজ এ ব্র্যাকের একটি নির্মাণাধীন স্কুল থেকে গাড়িতে করে বাগলান এলাকায় তাদের অফিসে ফিরে আসছিলেন ব্র্যাকের ৩ কর্মকর্তা। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে ওই গাড়ি থেকে অস্ত্রের মুখে ব্র্যাকের প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম সুমন ও প্রধান প্রকৌশলী হাজি শওকতকে অপহরণ করে বন্দুকধারীরা। ওই গাড়ির অপর আরোহী ছিলেন ব্র্যাকের আফগান প্রকৌশলী মনসুর আদিল। ওই রাতে আফগানিস্তান থেকে ফোনে সিরাজুল ইসলামের সহকর্মী শহিদুল ইসলাম তার পরিবারকে অপহরণের ঘটনা জানায়। এরপর থেকে সিরাজুল ও হাজি শওকতের স্বজনদের পরিবারে নেমে এসেছিল উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা।একে জামান/এসএস/পিআর