দেশজুড়ে

কুমিল্লায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুরের ভোট বর্জনের ঘোষণা

কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে জোরপূর্বক কেন্দ্র দখল করে প্রিসাইডিং অফিসারের সামনে প্রকাশ্যে নৌকা মার্কায় সীল, কেন্দ্র থেকে এজেন্ট বাহির করে দেওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুর রহমান।

রোববার ( ৭ জজানুয়ারী) বেলা পৌনে ১২টার দিকে ফুলকপি মার্কার প্রার্থী এ ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি পুনরায় নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে আহবান হানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রির্টার্নিং অফিসার জেপি দেওয়ান এর কাছে একটি আবেদনপত্র জমা দেন।

আবেদনে তিনি উল্লখ করেন, ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগে এবং পরে এ আসনে নৌকা মার্কার প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য মুজিবুল হক এর অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা জোরপূর্বকভাবে নির্বাচনী এলাকার সকল ভোট কেন্দ্র দখল করে প্রিসাইডিং অফিসারের সামনে প্রকাশ্যে নৌকা মার্কায় সীল দেওয়া শুরু করে এবং কেন্দ্রের ভিতরে নাশকতা চালায়।

এছাড়া কেন্দ্রের ভিতরে আওয়ামী লীগের এজেন্টরা ভোটারদের প্রকাশ্যে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে বাধ্য করছেন। অধিকাংশ কেন্দ্রে ফুলকপি প্রতীকের এজেন্টদেরকে কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। যে কয়েকটি কেন্দ্রে আমার এজেন্টরা প্রবেশ করেছেন তাদেরকে নৌকা মার্কার সমর্থকেরা মারধর করে কেন্দ্র থেকে বাহির করে দিয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এ অবস্থায় নির্বাচনী এলাকায় বর্তমানে সুষ্ঠু নির্বাচনের কোন পরিবেশ নাই। রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার এবং প্রশাসন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকলকে বার বার অভিযোগ করা হলেও তারা কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। দুটি কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসারের সামনে নৌকা মার্কার লোকেরা সীল মারার সময়ে আমার কর্মী সমর্থকেরা ভিডিও ধারণ করেন। নৌকা মার্কার সন্ত্রাসীরা সকল কেন্দ্রে সন্ত্রাস ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে সমগ্র নির্বাচনী এলাকায় একটি ভীতিকর পরিবেশ তৈরী করে রেখেছে। যার ফলে ভোটারগণও ভোটকেন্দ্রে আসতে আগ্রহী নয়।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, নৌকা প্রার্থী মুজিবুল হক এর সন্ত্রাসীদের ব্যাপক অনিয়ম, সন্ত্রাস, নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের ফলে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের কোনো পরিবেশ না থাকায় আমি নির্বাচন বর্জন করলাম এবং পুনরায় নির্বাচন আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছি।

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রির্টার্নিং অফিসার জেপি দেওয়ানকে একাধিকবার কল করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জাহিদ পাটোয়ারী/এনআইবি/এএসএম