আন্তর্জাতিক

পদত্যাগ নয়, সাময়িক দূরে আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সিগমুন্ডুর ড্যাভিড গুনলাওগসন বলেছেন, তিনি পদত্যাগ করেননি। তবে সাময়িক সময়ের জন্য তিনি ক্ষমতা থেকে দূরে রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী সিগমুন্ডুর কার্যালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট।পানামার আইনীপরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান ‘মসাক ফনসেকার’ ফাঁস হওয়া গোপন নথিতে গুনলাউগসন ও তার স্ত্রী আন্না সিগুরলাগ পালসদোতির ব্রিটেনের ভার্জিন আউসল্যান্ডে অফসোর ফার্ম রয়েছে; এতে তিনি এবং তার পরিবার কয়েক মিলিয়ন অর্থ গোপনে বিনিয়োগ করেছেন। জনগণের বিক্ষোভের মুখে মঙ্গলবার তিনি পদত্যাগ করেন বলে খবর প্রকাশের পর তা নাকচ করে দিয়েছেন সিগমুন্ডুর ড্যাভিড গুনলাওগসন।মসাক ফনসেকার ১ কোটি ১৫ লাখ নথি জার্মান দৈনিক জিটডয়েচ সাইতংয়ের হাতে আসলে তারা ওই নথিগুলো ওয়াশিংটনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টসকে (আইসিআইজে) দেয়। তাদের এক বছরের অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসে কর ফাঁকির চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। এতে বলা হয়েছে, ‘উইনট্রিস’ নামের ওই ফার্ম ২০০৭ সালে চালু করেন আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু এর দুই বছর পরে যখন তিনি সংসদের দায়িত্ব নেন তখন তা ঘোষণা করা হয়নি। পানামা পেপারস ফাঁস হওয়ার দুদিন পর মঙ্গলবার প্রথমে ধরে নেওয়া হয়েছিল যে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারির পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তির পর এ নিয়ে বিপরীত তথ্য দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রোগ্রেসিভ পার্টির ভাইস চেয়ারম্যানকে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রধানমন্ত্রীর অফিসের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী সিগমুন্ডুর ড্যাভিড গুনলাওগসন। প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেননি এবং প্রোগ্রেসিভ পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করবেন। পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে আগাম নির্বাচনের জন্য মঙ্গলবার গুনলাওগসন দেশটির রাষ্ট্রপতির কাছে দাবি জানিয়েছেন। তবে প্রেসিডেন্ট গ্রিমসন ওই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন। এদিকে, পানামা পেপারসে ফাঁস হওয়া অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, উইনট্রিসে থাকা তার ও স্ত্রীর শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন। এছাড়া তিনি ট্যাক্স পরিশোধ ও অফসোরে অবৈধ কোনোকিছুই করেননি বলে দাবি করেছেন। এসআইএস/আরআইপি