মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে রাজধানী ঢাকাতেই তৈরি হচ্ছে জাল ড্রাইভিং লাইসেন্স ও সার্টিফিকেট। এ কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত আটক প্রতারক চক্রের তিন সদস্যের কাছে এমন তথ্য পেয়েছেন র্যাব। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মিরপুরের দক্ষিণ পাইকপাড়াস্থ র্যাব-৪ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অধিনায়ক (সিও) খন্দকার লুৎফুল কবীর। এর আগে বুধবার এক বিশেষ অভিযানে প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে আটক করেছে র্যাব। রাজধানীর ভাষানটেক, কাফরুল ও নিউমার্কেট থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আটকরা হলেন, মো. আনোয়ারুল হক ওরফে শিমুল (৩৮), আব্দুল কাইয়ুম (৪৫) ও মো. সোহেল (২৬)। এছাড়া রিপন মিয়া নামে আরো একজন পলাতক রয়েছে।র্যাব জানায়, তাদের কাছ থেকে তিন শতাধিক ড্রাইভিং লাইসেন্সের কাগজপত্র ও মেশিন সরঞ্জামাদি, জাল সার্টিফিকেট, কম্পিউটার, লেমেনেটিং মেশিন, ল্যাপটপ, প্রিণ্টার, ট্যাব, সাপ্লাই মেশিন, স্ক্যানার, বিভিন্ন ব্যাংকের চেক ও হলফনামা জব্দ করা হয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে খন্দকার লুৎফুল কবীর বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা জানিয়েছে, অবিকলভাবে প্রত্যেকটি পরীক্ষার জাল সার্টিফিকেট তৈরি ও ভূয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স তৈরি করে তারা। একটি চক্র যোগসাজশ করে নিউমার্কেটের নীলক্ষেত এলাকার রাফিন প্লাজায় অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি দ্বারা জাল ডিজিটাল ড্রাইভিং লাইসেন্স ও বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার সার্টিফিকেট তৈরি করে আসছিল।তাদের এই প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের কারণে অনেকে যেমন ভোগান্তিতে পড়ছেন তেমনই অদক্ষ চালকরা ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে রাস্তায় নামার কারণে সড়ক দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে বলেও জানান তিনি।প্রতারক চক্রের সঙ্গে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের কেউ জড়িত কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত সে রকম কোনো তথ্য আমরা পাইনি। তবে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।শাস্তি পেয়ে জেলে যায় আবারো জামিনে বেরিয়ে এসে একই অপরাধে জড়ানোর ঘটনাই বেশি, এক্ষেত্রে অভিযানের সফলতা কতটুকু? -এমন প্রশ্নের জবাবে র্যাব-৪ অধিনায়ক বলেন, আসলে এটা বিচারিক ব্যাপার। শাস্তি কমই বলতে পারেন। তবে একাধিকবার যারা গ্রেফতার হচ্ছেন তাদের শাস্তি কিন্তু বেশি হচ্ছে।জেইউ/এসকেডি/আরএস/এবিএস