লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় দুইটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ সব প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। বুধবার উত্তর চরবংশী ও চর মোহনা ইউনিয়নের প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করায় এ দুই ইউপিতে আর নির্বাচন হচ্ছে না। উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তৃতীয় ধাপে ২৩ এপ্রিল রায়পুরের পাঁচটি ইউনিয়নে নির্বাচন হবে। চর মোহনা ও উত্তর চরবংশী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত সদস্য ও সাধারণ সদস্য পদে সব প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচিতরা সবাই আওয়ামী লীগ সমর্থিত। কার্যালয় সূত্রে আরো জানা গেছে, চর মোহনা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল ইসলাম মিঠু, আওয়ামী লীগের সফিক উদ্দিন পাঠানসহ তিনজন, সংরক্ষিত সদস্য পদে তিনজন ও সাধারণ সদস্য পদে ১৮ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। আর উত্তর চর বংশীতে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির আবদুল মান্নান সরকার ও আওয়ামী লীগের আবুল হোসেন হাওলাদারসহ পাঁচজন, সংরক্ষিত সদস্য পদে ছয়জন ও সাধারণ সদস্য পদে ২৩ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের বিএনপির প্রার্থী আবদুল মান্নান সরকার বলেন, আমার ইউপিতে আওয়ামী লীগ থেকে প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা চেয়ারম্যানের বড় ভাই। আমি আগুনের কুন্ডুলির মধ্যে আছি। নির্বাচন করার আশায় দল থেকে মনোনয়ন নিয়ে দাখিল করি। কিন্তু পরিস্থিতির কারণে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছি। উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী আবদুল মালেক গাজী, ৯নং ওয়ার্ডের গিয়াস উদ্দিন মাতাব্বর, চর মোহনা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী খোরশেদ আলম ও ২নং ওয়ার্ডের মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, মনোনয়নপত্র কিনার পর থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হুমকি-দমকি শুরু করে। বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। নিরাপত্তা না থাকায় মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে তারা বাধ্য হন। উপজেলা বিএনপির সভাপতি মনিরুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, অস্ত্রের মুখে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের কাছ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাহারের আবেদনে স্বাক্ষর নেয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। ভয়-ভীতির কারণে চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থীরা বাধ্য হয়েছেন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে। অভিযোগ অস্বীকার করে রায়পুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার মেয়র ইসমাইল খোকন বলেন, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে কাউকে চাপ দেয়া হয়নি। ভোট করবে না, বিধায় প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. নাছির উদ্দিন বলেন, চর মোহনা ও উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের সব প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচনের আর প্রয়োজন নেই। প্রার্থীরা স্ব-শরীরে উপস্থিত হয়ে তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। চাপ প্রয়োগ করে কোনো প্রার্থীকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করানোর বিষয়ে কেউ জানায়নি।কাজল কায়েস/এআরএ/আরআইপি