কয়েকবছর আগে বিভিন্ন কুইজ প্রতিযোগিতায় প্রশ্ন থাকতো, ‘ঢাকা গেট কোথায়?’। তাতে অনেকেই অবাক হতো ঢাকা গেট কি আসলেই আছে কি না? থাকলে সেটা কোথায়? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে পরিচিত থাকলেও সেটা নিয়ে জানতো না খোদ এটার পাশ দিয়ে যাতায়াত করা মানুষই। তবে সে অজানা আর থাকছে না। নতুন রূপে আজ উদ্বোধন হচ্ছে ঢাকা গেট।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বর দিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পাশ দিয়ে টিএসসি এলাকায় আসতে আগে চোখে পড়তো জীর্ণশীর্ণ এক স্তম্ভের। যেটি দেখে মনে হতো অসম্পূর্ণ কোনো কাজের অংশ। তবে সেটি আসলে অসম্পূর্ণ কোনো স্থাপনা নয়। সেটি হচ্ছে ঢাকা গেট।
ঢাকা গেটের দক্ষিণ দিকে রয়েছে দোয়েল চত্বর, পূর্বে রয়েছে তিন নেতার মাজার, পশ্চিমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবায়নযোগ্য শক্তি গবেষণা কেন্দ্রের দিকে আর উত্তর দিকে রয়েছে দোয়েল চত্বর টিএসসি রাস্তা।
ঢাকা গেটের রয়েছে বিভিন্ন নাম। এটিকে উইকিপিডিয়া মীর জুমলা গেইট বলে উল্লেখ করেছে। ঐতিহাসিকরা এটিকে বলেছেন ঢাকা গেট, ময়মনসিংহ গেট। আবার কেউ এটিকে রমনা গেট বলে উল্লেখ করেছেন। তবে ঢাকা গেট নামেই এটি সর্বাধিক পরিচিত।
তবে বাংলাদেশ সরকারের গেজেট অনুসারে এ তোরণ এবং আশপাশের জায়গার নাম দেওয়া হয়েছে ‘মীর জুমলার গেট’। যা খুবই কৌতুহলজনকও বটে। আর মোঘল স্থাপত্যরীতির স্থাপনা দেখে এটি নিয়ে বেশ আগ্রহও রয়েছে প্রত্নতাত্ত্বিকদের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে এটিকে উল্লেখযোগ্য স্থাপনা হিসেবে ধরা হয়।
এই ঢাকা গেটের স্থাপনকাল নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে বিভক্তি রয়েছে। কেউ এটিকে মোঘল সাম্রাজ্যের সময়ের স্থাপনা বলছেন। যা ১৭শ শতাব্দীতে স্থাপনের কথা বলছেন। আবার কেউ এটিকে বিংশ শতাব্দীর স্থাপনা বলছেন। তবে প্রথম মতটিই শক্তিশালী। এর পক্ষে নানান প্রমাণ রয়েছে। ঊনবিংশ শতাব্দীর সময়কার কিছু আলোকচিত্র পাওয়া যাচ্ছে ইন্টারনেটে। এ নিয়ে দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক ও ইতিহাসবিদদের মধ্যে বিপরীত মত রয়েছে।
এশিয়াটিক সোসাইটি থেকে প্রকাশিত ঢাকা কোষে বলা হয়েছে, ঢাকার সীমানা চিহ্নিত করতে এবং স্থলপথে শত্রুদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে ১৬৬০ থেকে ১৬৬৩ সালের মধ্যে ফটকটি নির্মাণ করেছিলেন মীর জুমলা।
তবে ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুন এ ধারণার সঙ্গে একমত নন। তার ‘স্মৃতি-বিস্মৃতির নগরী ঢাকা’ গ্রন্থে দাবি করা হয়েছে, ব্রিটিশ আমলে ঢাকার প্রথম ম্যাজিস্ট্রেট চার্লস ড’স ১৯২৫ সালের পর রমনার জঙ্গল পরিষ্কার করে রেসকোর্স তৈরি করেছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বরের কাছে জরাজীর্ণ ‘ঢাকা গেট’র নান্দনিকতা ফেরাতে ২০২২ সালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। গত বছরের মে মাসে সংস্কার কাজ শুরু হয়, যার কাজ সম্প্রতি শেষ হয়েছে। প্রায় ৮২ লাখ টাকা খরচ করে এ গেট সংস্কার করেছে ঠিকাদার কোম্পানি আহনাফ ট্রেডিংস। যা উদ্ধোধন হবে আজ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুন ও ফটকের নতুন নকশাকার অধ্যাপক আবু সাঈদ উপস্থিত থাকবেন।
আল সাদী ভূঁইয়া/এমআরএম