ভবনের প্রতিটি দেয়ালে ধরেছে ফাটল, ছাদ থেকে প্রতিনিয়ত ঝরে পড়ছে বালি, ছাদের ইটের খোয়া যেন আর ছাদে থাকতে চাইছে না। এমন জরাজীর্ণ পরিত্যাক্ত ভবনেই চলছে বাগেরহাট জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের কার্যক্রম। ব্রিটিশ আমলের কোনো এক সময়ে নির্মিত এ ভবনটির অবস্থা এখন এতটাই খারাপ যে, যে কোনো সময় ছাদ ধ্বসে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ ভবনেই প্রতিনিয়ত কাজ করে চলেছেন অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে নতুন ভবনের জন্য জমি বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। জেলা রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে জানা গেছে, বাগেরহাটের পৌর এলাকার সরুই মৌজার ১০নং এস.এ খতিয়ানের ৮৬৩ নং এস.এ. দাগের ৫৪ শতক জমিতে তৎকালীন জেলা জজ আদালত ভবন নির্মিত হয়। পরবর্তী সময়ে বৃহত্তর পরিসরে নতুন জেলা জজ কমপ্লেক্স ভবন অন্যত্র নির্মিত হলে ৫৪ শতক জমি ও স্থাপনা পরিত্যাক্ত করা হয়। পরে ১৯৯৭ সালে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পুরাতন আদালত ভবনকে জেলা রেজিস্ট্রার অফিস, সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিস এবং সদর মহাফেজ খানার জন্য বরাদ্ধ করা হয়। সেই থেকে পুরাতন জেলা জজ আদালত ভবনে জেলা রেজিস্টার অফিস, সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ও সদর রেকর্ডরুমের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।চলামান জরিপে উল্লিখিত ৫৪ শতক জমি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে বিচার বিভাগীয় অফিস সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয় হিসেবে দখল দেখানো থাকলেও দখলকৃত এ জমির মালিকানা মন্ত্রণালয় থেকে অত্র বিভাগের নামে হস্তান্তরিত না হওয়ায় এখন পর্যন্ত এখানে বিভাগীয় নতুন ভবন নির্মাণ সম্ভব হয়নি। যার ফলে রেকর্ডপত্র সংরক্ষণ এবং জনগনের কাঙ্খিত সুবিধা প্রদান সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া ১৯৮১ সালের আগের যাবতীয় রেকর্ডপত্র খুলনা সদর মহাফেজখানায় এবং মফস্বল অফিসের ২০০৫ সাল থেকে যাবতীয় রেকর্ডপত্র বাগেরহাট সদর মহাফেজখানায় স্থানান্তরিত করা সম্ভব হচ্ছে না।বাগেরহাট সদর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি শেখ আমজাদ হোসেন জানান, জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের ভবনটি গণপূর্ত বিভাগ কর্তৃক ব্যবহারের অযোগ্য হিসাবে ঘোষণা করা হলেও জমি বরাদ্দ না হওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়েই অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীরা তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।বাগেরহাট জেলা নকল নবিস এসোসিয়েশনের সভাপতি তপন কুমার দাস বলেন, জেলা রেজিস্ট্রার অফিস সব শ্রেণির জনগনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান। গত ২০ বছরে এ ভবনটি মাত্র একবার নামমাত্র সংস্কার করা হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এ ভবনে অফিসের কার্যক্রম পরিচালনার মত পরিস্থিতি থাকে না। ছাদ থেকে প্রতিনিয়ত বালু-খোয়া খসে পড়ছে। নতুন ভবনের জন্য জমি বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে জানানো হলেও কোনো প্রতিকার মিলছে না।এ সময় তিনি বলেন, আমরা রেজিস্ট্রার অফিসের নতুন ভবনের জমি বরাদ্দের জন্য জোর দাবি জানাই।শওকত আলী বাবু/এফএ/আরআইপি