চারদিকে চৈত্রের খরতাপ। প্রচণ্ড গরমে বিপর্যস্ত জনজীবন। যে যেভাবে পারছেন ক্লাান্তি দূর করতে কাজের ফাঁকে খুঁজছেন বিশ্রাম। কিন্তু অসহ্য এই গরমকে উপেক্ষা করেই প্রচারণা চালাচ্ছেন মানিকগঞ্জের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রার্থীরা। বৈরী আবহাওয়া শরীরকে কান্ত করলেও এক মুহূর্ত সময় নষ্ট করতে চান না তারা। তবে গরমের কারণে এখন দিনের চেয়ে রাতেই প্রচারণা জমে উঠছে বেশি।আগামী ২৩ এপ্রিল মানিকগঞ্জের ঘিওর ও শিবালয় উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। তাই হাতে আর বেশি সময় না থাকায় চৈত্রের গরমকে উপেক্ষা করেই প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। দিচ্ছেন নানা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি। সরেজমিন ঘিওর উপজেলার বড়টিয়া, ঘিওর সদর, বালিয়াখোরা, বানিয়াজুরি এবং শিবালয় উপজেলার তেওতা, শিবালয় সদর, আরুয়া, উলাইল, মহাদেবপুর ইউনিয়ন ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।শিবালয়ের তেওতা ষাইট ঘর বাজারে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন তেওতা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আব্দুল করিম। তিনি জানালেন, প্রচণ্ড গরমে দম যেন বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু তারপরও বসে থাকার উপায় নেই। কারণ নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। মাঠ ধরে রাখতে হবে।গামছা দিয়ে শরীরের ঘাম মুছতে মুছতে উলাইল ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল ইসলাম মান্নান জানান, চৈত্রের তাপে প্রচারণা চালানো খুবই কষ্টদায়ক। তারপরও সময় কম। তাই প্রতিটি ঘরে ঘরে যাওয়ার চেষ্টা করছি। অনেকের বাড়ি থেকেই স্ব-উদ্যোগে স্যালাইন ও শরবত খেতে দেন। ভাল লাগে।ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ প্রার্থী আনন্দ কর্মকার জানান, গরমে নিজেরাও ক্লান্ত। ক্লান্ত কর্মী, সমর্থক ভোটাররাও। তারপরও প্রচারণা অব্যাহত রেখেছি। মানুষের কাছে যাচ্ছি, ভোট চাচ্ছি। তবে রাতের বেলাতেই কর্মী সমাগম ঘটে বেশি।জাবরা জেলে পাড়ায় প্রচারণা চালানোর সময় এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হচ্ছিল আনন্দ কর্মকারের সঙ্গে। কথা বলতে বলতেই তাকে দেখা গেলো এক বাড়ি থেকে পানি চেয়ে খাচ্ছেন আনন্দ কর্মকার ও তার কর্মীরা।একটু দূরেই মুন্নী নামে এক সংরক্ষিত নারী সদস্য প্রার্থী ও তার দুই কর্মীকে দেখা গেলো গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিচ্ছেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, রোদ আর গরমে শরীর ক্লান্ত হয়ে গেছে। তাই একটু বিশ্রাম নিচ্ছি। এখনও অনেক জায়গায় যাওয়ার বাকি। এদিকে প্রকৃতির গরম উপেক্ষা করে প্রার্থীরা বিরামহীন প্রচারণা চালালেও মাঝে মধ্যেই প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা নির্বাচনী মাঠ আরও উত্তপ্ত করছে।শিবালয়, পয়লা, মহাদেপুর, বড়টিয়াসহ কয়েকটি ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা থাকলেও এখনও কোথাও বড় ধরনের সহিংসতা ঘটেনি। তবে দ্বিতীয় দফার নিবার্চনে এ জেলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছিল। এ কারনে ২৩ এপ্রিলের ভোট নিয়ে সাধারণ ভোটাদের মধ্যে ভয় আর শঙ্কা রয়েছে।মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজিম-উল-আহসান জানান, ভোটের আগে ও পরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। তিনি ভোটারদের আশস্ত করেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে সবাই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তাই ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।বি.এম খোরশেদ/এসএস/আরআইপি