চৈত্রের প্রখর রোদ আর প্রচণ্ড দাবদাহে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা অসহনীয় হয়ে উঠেছে। এই অঞ্চলের তাপমাত্রা গত দু`দিন ধরে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি।জানা গেছে, বিরূপ আবহাওয়া এবং ভ্যাপসা গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। সেই সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং মানুষের এই দুর্ভোগের মাত্রাকে আরেক দফা বাড়িয়ে দিয়েছে। ইতোমধ্যে অসংখ্য গভীর ও অগভীর নলকূপ অকেজো হয়ে পড়ায় সেচকার্যে মারাত্মক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। শ’ শ’ টিউবওয়েলে পানির স্তর নেমে যাওয়ার কারণে সেগুলো থেকে আর পানি উঠছে না। প্রখর রোদ যেন আগুনের ফুলকা হয়ে বিঁধছে মানুষের শরীরে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া মানুষ রাস্তায় বেরুতে পারছে না। কমে যাচ্ছে যানবাহনের সংখ্যা। দোকানপাট ও অফিস আদালত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে আগে ভাগে। প্রচণ্ড রোদ ও গরমের মধ্যে বেনাপোল বন্দরে মালামাল লোড আনলোড করতে হিমসিম খাচ্ছে শ্রমিকেরা। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শ্রমজীবী দরিদ্র মানুষেরা।গ্রামাঞ্চলে চলছে আরেক অবস্থা। কৃষকরা ক্ষেত খামার পরিচর্যার কাজ শুরু করেছেন খুব ভোর থেকেই। দুপুরের আগেই তারা ক্ষেত ছাড়ছে, আবার বিকেলে রোদের তাপ না কমা পর্যন্ত তারা মাঠে নামছে না। গত কয়েকদিন যাবত এই অঞ্চলে অতিমাত্রায় তাপমাত্রা বিরাজ করছে। এখানে কোনো বৃষ্টিপাত নেই দীর্ঘদিন যাবত। মাটি তপ্ত হয়ে উঠেছে। আকাশে মেঘের ঘনঘটা দেখে গরমে অতিষ্ঠ মানুষের মনে কিছুটা আশার সঞ্চার হলেও তা মুহূর্তে মিলিয়ে যাচ্ছে দিগন্তে। একদিকে অনাবৃষ্টি, অন্যদিকে গা পোড়ানো রোদ্দুর মানুষের জীবরযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। লোডশেডিং মানুষের এই দুর্ভোগের মাত্রাকে আরেক দফা বাড়িয়ে দিয়েছে। দিনে রাতে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার কারণে মানুষের প্রাণ ওষ্ঠাগত। এদিকে ভয়াবহ দাবদাহ বিরাজ করায় বিভিন্ন এলাকায় কলেরা, ডায়রিয়া, সর্দি, কাশি, জ্বরসহ নানা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এখানকার আবহাওয়া অফিস বলছে এ অবস্থা আরো ৩-৪ দিন অব্যাহত থাকবে। ভারতের উপর দিয়ে বয়ে আসা উষ্ণু বায়ুর প্রভাবে তাপ প্রবাহ বইছে। তাছাড়া কয়েক দিন বৃষ্টি না হওয়ায় তাপমাত্রা বেড়ে গেছে। আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কুষ্টিয়া অঞ্চলের উপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের ওপর দিয়ে বইছে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ। চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে দেশের বেশিরভাগ স্থানে বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।জামাল হোসেন/এসএস/পিআর