দেশজুড়ে

বগুড়ায় পাঁচ দিনব্যাপি বৈশাখী মেলা

বগুড়ায় নাশকতার আশঙ্কায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যদিয়ে বর্ষবরণ ও বৈশাখী উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবার বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে র‌্যাব-পুলিশের পাশাপাশি শহরে মোতায়েন করা হয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। এছাড়া জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রচারনায় সন্ধ্যার আগেই বর্ষবরণের উৎসব শেষ করতে বলা হয়।এদিকে, সকাল থেকেই ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে এবারো বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন মঙ্গল শোভাযাত্রা ও বৈশাখী উৎসবের আয়োজন করে। বগুড়া থিয়েটারের আয়োজনে এবারো শহরের এডওয়ার্ড পার্কে বসছে পাঁচ দিনব্যাপি বৈশাখী মেলা। এতে সার্বিক সহযোগিতা করছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের মার্কেটিং ও ইভেন্ট ম্যানেজার মোহাম্মদ আলমগীর জানান, মেলাতে প্রাণ-আরএফএলের পণ্য প্রদর্শনের জন্য একাধিক আউটলেট রয়েছে।প্রতি বছর বৈশাখে বগুড়া থিয়েটার আয়োজন করে বৈশাখী মেলা। তারই ধারাবাহিকতায় এবারো শহরের শহীদ টিটু মিলনায়তনে পাঁচ দিনব্যাপি বৈশাখী মেলার আয়োজন করেছে সংগঠনটি। যে মেলা চৌত্রিশ পেরিয়ে পঁয়ত্রিশে পা রাখলো। সকালে মেলার উদ্বোধন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দিন। বগুড়া পৌরসভার মেয়র অ্যাড. একেএম মাহবুবর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন, দৈনিক করতোয়ার সম্পাদক মোজাম্মেল হক লালু, বৃহত্তর বগুড়া সমিতির সভাপতি মাসুদুর রহমান রন্টু, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মজনু উপস্থিত ছিলেন।এছাড়া অনুষ্ঠানে বগুড়া থিয়েটারের সভাপতি বৈশাখী মেলা উদযাপন কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক এএইচ আযম খান ও থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক মেলা কমিটির সদস্য সচিব তৌফিক হাসান ময়না উপস্থিত ছিলেন। মেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পুতুল নাচ, লাঠি খেলা, পালাগান, লালনগীতি, লোক সংগীত, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, মঙ্গল শোভাযাত্রা ও পান্তা উৎসবের আয়োজন করা হয়েছিল।পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে জেএমবির বেশ কিছু বোমা হামলা ঘটনার পর এবার বাংলা বর্ষবরণ ও বৈশাখী উৎসব হওয়ায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় অন্যবারের চেয়ে বেশি সতর্কতা নেয়া হচ্ছে। নাশকতা ঠেকাতে এবারই প্রথম সিসি ক্যামেরা আওতাভুক্ত করা হয়েছে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ। এছাড়া কর্তব্যরত ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে বিপুল-সংখ্যক র‌্যাব ও পুলিশ শহরে টহল দেবে। উৎসবস্থলে র‌্যাব-পুলিশের তিন স্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা বলয় থাকবে। এছাড়া থাকবে সাদা পোশাক পুলিশের নজরদারি। তিনি আরো বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দিনের আলোর মধ্যেই বৈশাখী অনুষ্ঠান শেষ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।  এআরএ/এবিএস