যশোরের চুড়ামনকাটিতে পূর্ববিরোধের জেরে ওয়ার্ড যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের গোবিলা গ্রামের তরিকুল ইসলামের বাড়ির সামনে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত শিমুল হোসেন (৪০) গোবিলা গ্রামের মোকলেছুর রহমানের ছেলে। তিনি চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও আমবটতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ছিলেন।
নিহত শিমুল হোসেনের ভাই আশরাফ হোসেন জানান, মসজিদে তারাবি নামাজ শেষে বাড়িতে ফিরছিল শিমুল। পথিমধ্যে গোবিলা গ্রামের তরিকুল ইসলামের বাড়ির সামনে পৌঁছালে বুলবুলসহ ৪/৫ জন তাকে কুপিয়ে আহত করে। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে তাকে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ।
তিনি আরও জানান, পূর্বশত্রুতার জের ধরে বুলবুলসহ ৪/৫জনের সঙ্গে তার দীর্ঘদিন থেকে গন্ডগোল চলছিল। রাতে একা পেয়ে বুলবুলসহ ৪/৫জন তাকে কুপিয়ে হত্যা করে।
যশোর জেনারেল হাসপাতালে সার্জারি বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. সৌমিক সাহা বলেন, শিমুলের মাথার পেছনের শিরা ধারালো অস্ত্রের আঘাতে কেটে মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া শরীরের একাধিক স্থানে এলোপাতাড়ি জখমের চিহ্ন রয়েছে। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
হাসপাতালের আরএমও পার্থপ্রতিম চক্রবর্তী জানান, নিহত শিমুলের দুই পায়ের রগ কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এছাড়া তার মাথা ও পায়ে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন আছে।
যশোর ডিবি পুলিশের এসআই মফিজুল ইসলাম জানিয়েছেন, আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রæতার জেরে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তারা ঘটনার তদন্ত ও জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু হয়েছে।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক জানান, পূর্ব শত্রæতার কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। নিহতের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
নিহত শিমুলের মামি আছিয়া বেগম জানান, বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে মোবাইল ফোনে খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসি। এখানে এসে ভাগ্নের লাশ দেখতে পাই।
মিলন রহমান/এএইচ/এমএস