দেশজুড়ে

ইউপি নির্বাচন : রাজবাড়ীতে আচরণবিধি লঙ্ঘনের হিড়িক

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত নারী সদস্য ও সাধারণ সদস্য পদ প্রার্থীরা যেন আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রতিযোগিতা করছেন।চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ, বিএনপির দলীয় প্রার্থীর বাইরে বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে রয়েছে। তবে প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিভিন্ন দিক চোখে পড়লেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি নির্বাচন কমিশন। এছাড়া প্রতিনিয়তই পোস্টার ছেঁড়া, প্রচার মাইকিংয়ে বাঁধা দেয়া, নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর করাসহ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। বালিয়াকান্দি উপজেলার নির্বাচনী এলাকাগুলোর বিভিন্ন স্থানে থাকা মুদি দোকান, চায়ের দোকান, হাসপাতালগেট, বিদ্যুতের ঘুটি, বসত বাড়ির দেয়াল ও বেড়ায় আঠা দিয়ে লাগানো হয়েছে প্রার্থীদের পোস্টার। তবে কিছু কিছু উল্লেখ্যস্থানে রশির সঙ্গে লাগানো হয়েছে পোস্টার।প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রার্থীরা তাদের পোস্টার এভাবে লাগানো শুরু করেছেন বলে ভোটারা জানান। তবে অনেকে মন্তব্য করেন যারা পোস্টার লাগাচ্ছে তারা হয়তো নিজেরাই জানেন না আচরণবিধি কাকে বলে।নির্বাচনী ইউপিরগুলোর বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ ও এর বিদ্রোহী আবার কোথাও কোথাও বিএনপি বা স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটছে। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় ইতোমধ্যে বেশ কিছু কর্মী সমর্থক আহতও হয়েছেন।দলীয় ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় তাদের বিপরীত প্রার্থীর সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রের ভয় ভীতি দেখিয়ে তাদের কর্মীদের উপর চাপ এবং নির্বাচনী প্রচারণায় বাঁধা সৃষ্টি করছে। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে ভোটার, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেন প্রার্থীগণ।উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর, নবাবপুর, বহরপুর, নারুয়া, জঙ্গল, বালিয়াকান্দি, জামালপুরসহ ৭টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ২৯ জন, সাধারণ সদস্য পদে ২৩৬ জন এবং সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ৬৪ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ওই ৭টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৬ জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭৭ হাজার ৫শ ৮০ জন ও নারী ভোটার ৭৫৪৬৬ জন। মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৬৫টি, কক্ষের সংখ্যা ৩৭৬টি, অস্থায়ী ভোট কক্ষের সংখ্যা ৪৬টি।উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাইফুল আলম জানান, আঠা দিয়ে পোস্টার দেয়াল অথবা বেড়ায় লাগানোর সুযোগ নেই। যদি কোনো প্রার্থী লাগিয়ে থাকেন তাকে তা দ্রুত সময়ের মধ্যে তুলে নিতে হবে। তবে এ সংক্রান্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পেলেই ওই সব প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য, তৃতীয় দফা ইউপি নির্বাচনে রাজবাড়ীর দুটি ( গোয়ালন্দে ৪টি ইউপি ও বালিয়াকান্দির ৭টি ইউপি) ১১টি ইউপির মধ্যে ৯ ইউপিতে নির্বাচন হতে যাচ্ছে চলতি মাসের ২৩ এপ্রিল। তবে গোয়ালন্দ উপজেলার ৪টি ইউপির দেবকগ্রাম ও দৌলতদিয়া ইউপিতে আইনি জটিলতায় নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। এছাড়া বালিয়াকান্দি উপজেলার জঙ্গল ইউপি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী ক্ষিরোদ বরণ বসু মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেয়াতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ইউপি আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান নৃপেন্দ্রনাথ বিশ্বাস বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন। এখন সরকারিভাবে ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে। রুবেলুর রহমান/এসএস/এবিএস