তথ্যপ্রযুক্তি

করছাড় না দিলে ‘স্টার্টআপ’ খাত ‘শাটআপ’ হবে

চলতি বছরের জুনের পর সফটওয়্যার ও আইটিইএস খাতের করপোরেট কর ছাড় সুবিধা উঠে যেতে পারে। সরকার করছাড় তুলে নিলে মুখ থুবড়ে পড়তে পারে দেশের প্রযুক্তি খাতের বিকাশমান স্থানীয় নবীন উদ্যোক্তারা।

Advertisement

উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীরা বলছেন, রাজস্ব আদায়ের মারপ্যাঁচে বিকাশমান স্টার্টআপ খাত ‘শাটআপ’ হয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে করছাড় প্রত্যাহার করলে দেশে কমতে থাকা রিজার্ভ আরও তলানিতে নামতে পারে।

বুধবার (২৪ এপ্রিল) ‘স্থানীয় প্রযুক্তি উদ্যোগ বিকাশে ট্যাক্স পলিসি’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ডেইলি স্টার সম্মেলকনকেন্দ্রে এ সভার আয়োজন করা হয়।

ভেঞ্চার ক্যাপিটাল অ্যান্ড প্রাইভেট ইক্যুইটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ভিসিপিইএবি), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস), ইনস্টিটিটিউট অব ইনফরমেটিক্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইআইডি) এবং এডটেক সোসাইটি যৌথভাবে এ আয়োজন করে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এডটেক সোসাইটি সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর।

Advertisement

ভিসিপিইএবি প্রেসিডেন্ট শামীম আহসান বলেন, প্রায় দুই বছর হলো স্টার্টআপ স্যান্ডবক্স চালু করলেও এখনো কোনো কোম্পানি এর অধীনে নিবন্ধিত হতে পারেনি। ফলে লাভ করুক বা না করুক আগামীতে তাদের মোট আয়ের শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। এটা খুবই শঙ্কার ও উদ্বেগের বিষয়।

বেসিস’র সিনিয়র প্রেসিডেন্ট সামিরা জুবেরী হিমিকা বলেন, ২০২২-২০২৩ সালের মধ্যে দেশে ভিসি ফান্ডিং কমেছে ৪২ শতাংশ। অথচ ট্যাক্স এক্সাম্পশনের কল্যাণে প্রতিবেশী দেশ ভারত, সিঙ্গাপুর, মিশরের মতো দেশে বিকশিত হচ্ছে নবীন উদ্যোক্তারা। দেশের প্রতিটি স্টার্টআপের জন্য অন্তত পাঁচ বছরে কর অবকাশ সুবিধা দেওয়া উচিত।

আইআইডি’র নির্বাহী প্রধান সাঈদ আহমেদ বলেন, দেশে আইসিটি খাত থেকে বছরে ৯ হাজার কোটি টাকা বেতন দেওয়া হয়। সেখান থেকেও সরকার কর পায়। দেশে এখন ৭২ হাজার কোটি টাকার কু-ঋণ রয়েছে। সেখানে এ খাতের জন্য দুই হাজার কোটি টাকা ছাড় দেওয়াটাই যেন তাদের কাছে বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গোলটেবিল আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন এআর কমিউনিকেশনের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান নির্বাহী এম আসিফ রহমান, বিডস ইকোনোমি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জীশান কিংশুক হক, চালডাল ডটকম প্রতিষ্ঠাতা জিয়া আশরাফ, কনটেন্ট ম্যাটার্স লিমিটেড সিইও এস এম রফিকুল ইসলাম সানা, ড্রিমার্স ল্যাব প্রতিষ্ঠাতা তানিভীর হোসেন খান, এসএসডি টেক প্রতিষ্ঠাতা ফিরোজ জাহিদুর রহমান, বাংলাদেশ ভেঞ্চার ক্যাপিটেল লিমিটেডের সিইও শওকত হোসেন প্রমুখ।

Advertisement

এএএইচ/ইএ/জিকেএস