দেশজুড়ে

গরমে অতিষ্ঠ নওগাঁবাসী

তীব্র তাপদাহ আর টানা ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ নওগাঁবাসী। অনাবৃষ্টির কারণে মানুষের প্রাণ প্রায় ওষ্ঠাগত। বাতাসের সঙ্গে বইছে হালকা আগুনের তাপ। ঘরে-বাইরে কোথাও স্বস্তি নেই। বৃষ্টি না হওয়ায় তাপমাত্রা বেড়ে গেছে।কর্মজীবী মানুষ বাইরে বের হলেই অতিরিক্ত ঘামে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। ক্লান্তি দূর করতে কেউ পান করছেন ডাবের পানি, কেউবা খাচ্ছেন শসা, ক্ষীরা আর লেবুর শরবত।শহরের মোড়ে মোড়ে ঠান্ডা পানির লেবুর শরবত বিক্রি করছেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। স্বস্তি পেতে পিপাসায় কাতর মানুষ রাস্তার ধারের দোকানগুলোতে ভিড় করছেন।ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি আলামিন জানান, প্রচণ্ড গরমে গা ঘেমে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে দুর্বল হয়ে পড়ছি। গরম বেশি হওয়ায় গত কয়েকদিন থেকে সর্দি ও জ্বরে ভুগছি। অন্য কোনো লোকজন গরমে ঘরের বাইরে না গেলেও আমাদের বাইরে যেতেই হবে।শহরের বাটার মোড়ে ভ্রাম্যমাণ শরবত বিক্রেতা গোলাম মোস্তফা জানান, গরমে ঠান্ডা পানীয় ও শরবতের চাহিদা বেড়ে গেছে। বেচা বিক্রি ভালই হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় হাজার থেকে ১২০০ টাকা বিক্রি হয়। এ সময় দুজন ইলেকট্রিশিয়ান দিপু ও বাসু রিকশা থেকে নেমে দোকানিকে শরবত দিতে বলেন। শরবত খেয়ে তারা পরম তৃপ্তি পেল বলে জানান।যাত্রী নামিয়ে দিয়ে শহরের মুক্তির মোড়ে গাছের ছায়ায় একটু আরাম করছিলেন রিকশাচালক সুজন। গরমে গা ভিজে জামা চিটচিটে হয়ে গেছে। এ সময় গামছা দিয়ে শরীরের ঘাম মুচছিলেন। প্রচণ্ড গরমে যাত্রী কম হওয়ায় আগের তুলনায় ভাড়াও কম হচ্ছে বলে জানান। তিনি বলেন, দিনে প্রায় ২০০ থেকে আড়াই শ` টাকার ভাড়া হয়। বাজারে দ্রব্যমূল্যের যে দাম এ স্বল্প টাকায় সংসার চালানোও কষ্টকর।নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা আবহাওয়া সহকারী ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন জানান, গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬.৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ বুধবার সর্বনম্নি তাপমাত্রা ২৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৩.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে এ মাসে নিম্নচাপ হওয়ার সম্ভবনা আছে।নওগাঁর সিভিল সার্জন একেএম মোজাহার হোসেন বুলবুল জানান, তীব্র তাপদাহে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। গরমে মানুষকে সর্তকভাবে থাকার জন্য বলা হচ্ছে। প্রচণ্ড এই গরমে সবাইকে প্রচুর পানি, ঠান্ডা জাতীয় খাবার ও স্যালাইন খাওয়ার জন্য পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।আব্বাস আলী/এসএস/পিআর