আমাদের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম হলো নদীতে জাল ফেলে ইলিশ ধরা। ঝালকাঠি জেলায় প্রকৃত পেশাদার জেলেদের সংখ্যার চেয়ে সহায়তার জন্য বরাদ্দ ৫ ভাগের এক ভাগেরও কম। তারপর আবার দিচ্ছে ৪০ কেজি করে শুধু চাল। তাহলে অন্যান্য তেল, মসলা ও তরকারি পাবো কোথায়? শুধু চালে কি পেট ভরে? এমন প্রশ্ন এখন ঝালকাঠি জেলার প্রায় ৫ হাজার জেলের মুখে। জেলেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জাটকা ধরা নিষিদ্ধ কিন্তু ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ না থাকলেও নদীতে জাল ফেললেই কয়েক রকমের অভিযান এসে আমাদের কাছ থেকে জাল নিয়ে যায়। জাটকা ধরি না বড় ইলিশ ধরি তা তারা দেখেন না। সরকার ভিজিডি চালের সহায়তার পরিমাণ ও সংখ্যা বাড়িয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যও যদি সহায়তা দিতো তাহলে আমাদের আর দুঃখ থাকতো না।উল্লেখ্য, ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ১০ ইঞ্চির নীচে সকল ধরনের ইলিশ, জাটকা ও চাপিলা আহরণ, মজুদ ও পরিবহন নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এসময় জেলেদের এ সহায়তা প্রদান করা হয়। ঝালকাঠি জেলায় জেলে রয়েছেন ৫ হাজার ৩শ ৭৫ জন, এর মধ্যে সহায়তা পান মাত্র ১ হাজার ১২ জন। যা জেলেদের সংখ্যার ৫ ভাগের ১ ভাগেরও কম।জেলা মৎস্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ঝালকাঠি জেলার ৪ উপজেলায় জেলে রয়েছেন ৫ হাজার ৩শ ৭৫ জন। এদের মধ্যে ভিজিডির চাল ৪০ কেজি করে প্রতিমাসে দেয়া হচ্ছে ১ হাজার ১২ জনকে। ঝালকাঠি সদর উপজেলায় ৯শ ৯২ জন জেলের মধ্যে ২শ ৫৯ জন, নলছিটি উপজেলায় ২ হাজার ৪২ জন জেলের মধ্যে ২শ ৮২ জন, রাজাপুর উপজেলায় ৯শ ৮৭ জন জেলের মধ্যে ২শ ১৮ জন ও কাঠালিয়া উপজেলায় ১ হাজার ৩শ ৫৪ জন জেলের ২শ ৫৩ জন ভিজিডির ৪০ কেজি করে চাল সহায়তা পাচ্ছেন।জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রীতিষ কুমার মন্ডল বলেন, ঝালকাঠিতে কিছুদিন হলো যোগদান করেছি। ভিজিডি চাল সহায়তায় আরো জেলেদের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি লেখার প্রস্তুতি নিচ্ছি। সেখান থেকে বরাদ্দ পেলে আমরা দিতে পারবো। এফএ/আরআইপি