সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যদিয়ে শনিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার ৮ ইউনিয়নের নির্বাচন। প্রথমবারের মত দলীয় প্রতীকে ইউপি নির্বাচন হওয়ায় একদিকে উৎসব মূখর পরিবেশ বিরাজ করছে নির্বাচনী এলাকায়, অন্যদিকে চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন ভোটার ও প্রার্থীরা।নির্বাচনে প্রায় সব দলের প্রার্থীরা অংশগ্রহণ করলেও মূল লড়াই হবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র প্রার্থীর মাঝে। এছাড়াও প্রতিটি ইউনিয়নে আ’লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় সহিংসতা হবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় জনগন।সরেজমিন ঘুরে ভোটার ও প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৮টি ইউনিয়নের ৭৬টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ২/১টি ব্যতিত প্রায় সবগুলোই ঝুকিপূর্ণ। তবে উপজেলার চলবলা, চন্দ্রপুর, দলগ্রাম, ভোটমারী, গোড়ল ও কাকিনা ইউনিয়নে সহিংসতার আশঙ্কা তুলনামূলক বেশি। কেননা, এসব ইউনিয়নের ভোটারদের কাছে দলের চেয়ে ব্যক্তি বড়। সুতরাং তারা প্রতীক নয় বরং যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচিত করবেন বলে ভোটারদের অভিমত। একটি সূত্রে জানা গেছে, বহিরাগত সন্ত্রাসী ভাড়া করে এনে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি ও কেন্দ্র দখলের পরিকল্পনা রয়েছে আ’লীগ মনোনীত প্রার্থীরা। ফলে নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যাহত করার এসব পরিকল্পনায় ভোটারগণ উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় আছে। এদিকে চন্দ্রপুর ও চলবলা ইউনিয়নে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, কাকিনায় জাপা মনোনীত, ভোটমারীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ আযম নয়ন এবং দলগ্রামে স্বতন্ত্র প্রার্থী তাজুল ইসলাম শক্তিশালী অবস্থানে থাকায় তারা সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন। চন্দ্রপুর ইউনিয়নের বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করে বলেন, তার প্রতিদ্বন্দ্বী আ’লীগ মনোনীত প্রার্থী মাহবুবার রহমান ভোটের আগেই নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করেছেন। অপরদিকে চলবলার বিএনপি’র প্রার্থী গোলাপ হোসেন ভোট কারচুপির আশঙ্কা করে বলেন, আ’লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী মিজানুর রহমানের লোকজন তার ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। এসময় তিনি ওই প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ তোলেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আ’লীগের প্রার্থীরা।লালমনিরহাট পুলিশ সুপার টিএম মোজাহিদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ভোট গ্রহণ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত রাখা হচ্ছে। সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাদা পেশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি ছাড়াও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত ও স্টাইকিং ফোর্স মাঠে থাকবে।রবিউল হাসান/একে