দেশজুড়ে

দেলদুয়ারে কোণঠাসা আ.লীগ, ফুরফুরে মেজাজে বিএনপি

চতুর্থ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে আওয়ামী লীগের পদ বঞ্চিতরা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেয়ায় কোণঠাসা অবস্থানে রয়েছেন আওয়ামী লীগ। উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ৫টিতেই দলের মনোনয়ন বঞ্চিতরা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। পাশাপাশি ৮ ইউনিয়নেই বিএনপির একক প্রার্থী রয়েছে। এতে এ উপজেলায় নৌকার প্রার্থীদের ভরাডুবি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৭৫টি ভোট কেন্দ্রের ৪২২টি বুথে আগামী ৭ মে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এখানে ভোটার রয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৮০ জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছে ৭৫ হাজার ৩২ ও নারী ভোটার ৭৮ হাজার ৯৪৮ জন। সরেজমিন ঘুরে দলীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগে জানা যায়, দেলদুয়ার উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম খান দেলদুয়ার সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু মনোনয়ন বাছাই কমিটি অপেক্ষাকৃত কম জনপ্রিয় নতুন মুখ মো. মোয়াজ্জেম হোসেন খান মিলনকে এ মনোনয়ন দেয়। এ কারণে আবুল কাশেম খান বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। এর ফলে উপজেলা আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মীই গোপনে অবস্থান নিয়েছেন এ বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে। এ ইউনিয়নে শুধু দলীয় হেভিওয়েট বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীই নয়, রয়েছে বিএনপি মনোনিত প্রার্থী রকিব উদ্দিন বাবুল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তিনবারের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবু তাহের তালুকদার বাবলু।ডুবাইল ইউনিয়নে টানা চারবারের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আতোয়ার রহমান দলীয় মনোনয়ন চেয়ে বঞ্চিত হয়েছেন। নৌকার টিকিট পেয়েছেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস মিয়া। এর ফলে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন আতোয়ার রহমান। ব্যক্তি ইমেজ ও চারবারের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এ ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী আতোয়ারের জয়ের সম্ভাবনাই প্রকট বলে জানা গেছে। এছাড়াও বিএনপি মনোনিত প্রার্থী খোরশেদ আলম বাদলও রয়েছেন শক্ত অবস্থানে।ফাজিলহাটি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা কনক রঞ্জন বসু ও হুমায়ুন কবির নৌকার মনোনয়ন চেয়েছিলেন। এ দুই নেতাকে বঞ্চিত করে শওকত আলী শওকতকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়। এর ফলে এ ইউনিয়নটিতে বিরোধীতার মুখে পড়েছে দলীয় প্রার্থী। এ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এম.এ মবিন সরকার ও বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থী মো. তোফাজ্জল হোসেন রয়েছেন সুবিধাজনক অবস্থানে।লাউহাটি ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম শিবলী সাদিকের বড় ভাই গোলাম ফারুক পান্না নৌকার প্রার্থী হয়েছেন। এখানে সাবেক চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম ফিরোজ বিএনপির ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করছেন। এছাড়া সাবেক চেয়ারম্যান শাহীন মোহাম্মদ খানও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী। তবে এ ইউনিয়নে ফিরোজের জয়ের সম্ভাবনাই বেশি এমনটাই এলাকার ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে ।পাথরাইল ইউনিয়নে সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা হেলাল উদ্দিন দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন। মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের এর বাসার ভাড়াটিয়া ইউপি সদস্য রাম প্রসাদ সরকার। এ ইউনিয়নে সাবেক চেয়ারম্যান ক্লিন ইমেজের অধিকারী হানিফুজ্জামান লিটন ও বিএনপির উপজেলা শাখার সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ চান খাঁ রয়েছেন সিংহভাগ ভোটারের অন্তরে।আটিয়া ইউনিয়নে সাবেক চেয়ারম্যান বাবুলউজ্জামান মোল্লা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম মল্লিক নৌকার মনোনয়ন চেয়েছিলেন। দলীয় কোন্দলের কারণে তারা উভয়ই বাছাই কমিটির মন জয় করতে ব্যর্থ হয়েছেন। মনোনয়ন দেয়া হয়েছে রাজনীতিতে নয়া মুখ মাসুদুল হাসান তালুকদারকে। এ দুই হেবিওয়েট বিদ্রোহী প্রার্থীকে পরাজিত করে নৌকার প্রার্থীর জয় এ ইউনিয়নে খুবই কঠিন বলে ভোটারদের সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে।এলাসিন ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে সাবেক চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেনকে। এখানে আরেক সাবেক জনপ্রিয় চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া ও বিএনপির একক প্রার্থী আব্দুল লতিফ মিয়া রয়েছেন শক্ত প্রতিপক্ষ রূপে।দেউলী ইউনিয়নে খন্দকার জাহাঙ্গীর হোসেন ও কামরুল ইসলাম সাচ্চু অওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে পাননি। পেয়েছেন দেওয়ান তাহমিনা। এখানেও যোগ্যদের বঞ্চিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কামরুল ইসলাম সাচ্চু মনোনয়ন না পেয়ে জাতীয় পার্টিতে যোগদান করে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। ভোটের সমীকরণে সাচ্চু এ ইউনিয়নে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের দুই বিদ্রোহীসহ বিএনপির উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান রয়েছেন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী। এ ইউনিয়নে ১৩ হাজার ভোটের মধ্যে প্রার্থী ১১ জন।উল্লেখ্য, দেলদুয়ার উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মোট চেয়ারম্যান প্রার্থী ৪৮ জন, সংরক্ষিত নারী পদে ৮০ জন, সাধারণ সদস্য ৩১৮ জন। মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৮০ জন। ভোট কেন্দ্র ৭৫টি।আরিফ উর রহমান টগর/এসএস/এমএস