দেশজুড়ে

সারাদেশের তৃষ্ণা মেটাচ্ছে ঝালকাঠির ডাব

গ্রীষ্মকাল। খাঁ খাঁ রোদ্দুরে যেন কাঠও ফেটে যায়। প্রাণিকূলই অস্থির হয়ে পড়ে তীব্র গরমে। শরীর ঘেমে দুর্বল এবং তৃষ্ণার্ত হওয়ায় দেখা দেয় পানি শূন্যতা ও কোষ্ঠকাঠিন্য। এ রোগ থেকে উপায়ের জন্য কেমিকেলমুক্ত চিকিৎসার জন্য সবারই প্রিয় ডাবের পানি। এ সময় এক গ্লাস ডাবের পানি পান করলে পানি শূন্যতা এবং কোষ্ঠকাঠিন্য রোগ দূর করে শরীরকে শীতল করে। নারকেলের ফলন  ১২ মাসই হয়। তবে গ্রীষ্মকালে এর ফলনের পরিমাণ বেশি হওয়ায় বাজারে সরবরাহও বেশি দেখা যায়। সৃষ্টিকর্তা প্রতি মৌসুমেই তার সৃষ্টির চাহিদা অনুযায়ী ফল সবজি দিয়ে থাকেন। যেমন শীতকালে আবহাওয়া শুষ্ক থাকায় মানবদেহের লাবন্যতা কমে যায়। এ জন্য প্রচুর পরিমাণে সবুজ শাকসবজি দিয়ে থাকেন। ঋতুরাজ বসন্তের শুরুর সঙ্গে প্রকৃতি ফুলে ফুলে এবং নবপল্লবে ভরে যায়। গ্রীষ্মকালে রোদের তাপ প্রখর হওয়ার কারণে কর্মব্যস্ত মানুষের শরীর ঘেমে দুর্বল হয়ে পড়ে। তখন সেই ক্লান্তি এবং অবসাদ দূর করতে সময় অনুযায়ী ডাবের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। বিভিন্ন সময় চিকিৎসকদেরও পরামর্শ থাকে জ্বর অথবা প্রাথমিক পর্যায়ের কোনো অসুখ হলে মৌসুমী ফল খেতে। তাহলেই অসুখ কমে যায়। তীব্র গরমে পানি শূন্যতার কারণে ডায়রিয়া বা কলেরা রোগ দেখা দিলে ডাবের পানির জুড়ি নেই। ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহ জালাল বলেন, ঝালকাঠি জেলায় ১ হাজার ১৭৭ হেক্টর জমিতে নারকেলের বাগান রয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৩৯৫ হেক্টর, নলছিটি উপজেলায় ৩০০ হেক্টর, রাজাপুর উপজেলায় ২২০ হেক্টর, কাঠালিয়া উপজেলায় ২৬২ হেক্টর জমিতে নারকেল গাছের আবাদ রয়েছে। এতে কয়েক লাখ গাছ রয়েছে। যেখান থেকে এ অঞ্চলের  জুন (শুকনা) ও ডাব নারিকেল জনগণের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় এ মৌসুমে ডাবের উৎপাদন বেশি হয়। নারকেল গাছ লাগানোর পর প্রতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে গাছের গোড়ায় সামান্য কাদা মাটি ও সার দিলে ভালো ফলন হয়। এছাড়া তেমন কোনো যত্ন নেয়ার প্রয়োজন হয় না বলেও জানান তিনি। খুচরা ক্রেতা মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমরা ডাবের সাইজ অনুযায়ী ১০/১২ টাকা দরে প্রতিটি ডাব ক্রয় করি। গাছে ওঠা ও সরবরাহের পরিশ্রম নিয়ে ১৫/১৬ টাকা করে পাইকারদের কাছে বিক্রি করি। পাইকাররা আমাদের কাছ থেকে ডাব কিনে ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যায়। পাইকারি ক্রেতা আ. সবুর বলেন, খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে ১৫/১৬ টাকা দরে ক্রয় করে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় বড় শহরের মোকামে পৌঁছে দেয়া পর্যন্ত প্রতিটি ডাবে ২৫/২৬ টাকা খরচ পড়ে। আমাদের কাছ থেকে আবার খুচরা বিক্রেতারা ৩০/৩২ টাকা দরে কিনে নিয়ে ৪০/৫০ টাকা দরে প্রতিটি ডাব বিক্রি করে। তবে, প্রান্তিক পর্যায়ের নারকেল চাষীদের কাছ থেকে মধ্যসত্ত্বভোগীদের হাত বাড়িয়ে ক্রেতা পর্যন্ত পৌঁছাতে দাম অনেক হলেও মূলত প্রকৃত চাষীরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ চাষীদের। এসএস/পিআর