ছাত্র আন্দোলনের জের ধরে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) বন্ধ ঘোষণা করছে কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার বিকেলে ছাত্রদের এবং বুধবার সকাল ৯টার মধ্যে ছাত্রীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেয় এবং ২৭ জনকে আটক করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তার জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে গ্রীষ্মকালীন ছুটি এগিয়ে এনে ২৭ এপ্রিল থেকে ১১ মে পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই ছুটি ২৬ মে হতে ১০ জুন পর্যন্ত হবার কথা ছিল।যবিপ্রবি সূত্র জানায়, সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করে। এরপর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপাচার্য প্রফেসর ড. আবদুস সাত্তারকে অবরুদ্ধ করে শিক্ষার্থীরা। দুপুরে পুলিশ ক্যাম্পাসে গিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে। এতে ১০/১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে আন্দোলনকারীদের দাবি। পুলিশ ২৭ জনকে আটক করেছে।যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস হোসেন জানান, সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উপাচার্য প্রফেসর আবদুস সাত্তার তার কক্ষে অবরুদ্ধ ছিলেন। খবর গেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দিয়ে উপাচার্যকে মুক্ত করেন। যশোরের সহকারী পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) ভাস্কর সাহা জানান, বিকেলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২৭ শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে।প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্রীকে মারপিট ও লাঞ্ছিত করে কর্মচারী বদিউজ্জামান বাদলের ভাই শরীফ। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও বাদল পক্ষীয়রা ১০ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত প্রতিবেদনে কর্মচারী বদিউজ্জামান বাদল ও শিক্ষার্থী নাসির উদ্দিন বাদলকে স্থায়ী বহিষ্কার এবং আরো ৪ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে।বিষয়টি জানাজানির পর দুই পক্ষের মধ্যে মিশ্র-প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ১০ এপ্রিল শিক্ষার্থীরা বাদলের স্থায়ী বহিষ্কার ও পাঁচ শিক্ষার্থীর বহিষ্কার প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলনে নেমে পড়ে ছাত্র-ছাত্রীরা। ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে ১৬ দিন ধরে। অপরদিকে, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বদিউজ্জামান বাদলের আজীবন বহিষ্কার প্রত্যাহার ও পাঁচ শিক্ষার্থীর শাস্তির দাবিতে পাল্টা কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি অচল হয়ে পড়ে ক্যাম্পাস। এরই মধ্যে রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪ জন শিক্ষার্থীসহ ২৮ জনের নামে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে দুইটি মামলা করা হয়। এরপর মঙ্গলবার বিক্ষোভের জেরে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হলো। মিলন রহমান/এআরএ/এবিএস