দেশজুড়ে

আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে বাঁধ নির্মাণ

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার কুমারখালী মৃত নদী দখল করে বাঁধ নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নদীতে বাঁধ দিয়ে মাছ শিকারের অভিযোগ করা হয়েছে। এদিকে, বাঁধ নির্মাণের প্রতিবাদে স্থানীয়রা ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে। সোমবার (২৫ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে তারা মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল এবং মঙ্গলবার বরিশালে সংবাদ সম্মেলন করেন জেলেরা। দ্রুত নদীতে বাঁধ দেয়ার কাজ বন্ধ করার জন্য স্থানীয়রা প্রধানমন্ত্রী ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রায় ৩০ বছর আগে সুগন্ধা নদীর বুকে চর জেগে ওঠায় কুমারখালী এলাকা থেকে ১১৯ একর জুড়ে নদীতে লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ওই অংশটি পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মৃত ঘোষণা করে। তবে সুগন্ধা নদীর সঙ্গে সংযোগের কারণে জোয়ার ভাটার পানি সচল থাকায় নদীর মৃত অংশে মাছ শিকার করে স্থানীয় ৩০০ পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে। কৃষকরা ফসলের ক্ষেতে ওই নদী থেকেই পানি সরবরাহ করেন। এ অবস্থায় গত ১৬ এপ্রিল স্থানীয় প্রভাবশালী লোকজন দিয়ে কুমারখালী মরা নদী দখল করে। ওই দিন থেকেই তারা সুগন্ধা নদী থেকে জোয়ার ভাটার পানি প্রবেশের স্থানটিতে বাঁধ দেয়ার কাজ শুরু করে। স্থানীয়দের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বাঁধ নির্মাণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেও কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন প্রভাবশালী ওই মহলটি। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সুগন্ধা নদী দিয়ে জোয়ারে পানি প্রবেশ করছে কুমারখালী মরা নদীতে। ৬০/৭০ জন ব্যক্তি পার্শ্ববর্তী চর থেকে মাটি কেটে পানি প্রবেশ করার অংশে বাঁধ নির্মাণের কাজ করছেন। গত ১৬ এপ্রিল থেকে বাঁধ নির্মাণের কাজ করছেন তারা। পুরো কাজ সম্পন্ন করতে আরও ১০ দিনের মতো সময় লাগবে। সাংবাদিকদের দেখে প্রথমে বাঁধ নির্মাণের কাজের গতি কমিয়ে দেন শ্রমিকরা। বাঁধের কিছু দূরে ১৫/২০ জন যুবক লাঠিসোটা নিয়ে পাহাড়া দিচ্ছেন। স্থানীয়রা বাঁধা দিতে এলে লাঠিসোটা দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে প্রতিহত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। স্থানীয় শিক্ষক জামাল হোসেন বলেন, কুমারখালী মরা নদীতে এখনও জোয়ার ভাটার পানি আসে। মরা নদীতে প্রচুর মাছ পাওয়া যায়। এই মাছ শিকারের লোভে বাঁধ দিচ্ছেন। তিনি এই জমি সরকারের কাছ থেকে লিজ নিয়েছেন দাবি করে মাছ শিকারের চেষ্টা করছেন। আসলে সরকার উন্মুক্ত জলাশয় লিজ দেয়া বন্ধ করেছে অনেক আগে থেকেই। স্থানীয় মৎস্যজীবী জব্বার সিকদার বলেন, নদীতে বাঁধ দিয়ে অলিউল ইসলাম রুনু চৌধুরী ও তার ছেলেরা সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে আমাদের মাছ শিকার করতে দেবে না। নদীতে নামলেই মারধর করবে। বাঁধ দেয়া শেষ হলে এখানকার প্রায় ৩০০ মৎস্যজীবী পরিবার না খেয়ে মরবে। দখলকারীরা প্রভাবশালী। তাদের বিরুদ্ধে কথা বললে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দিয়ে হয়রানি করে। এ ব্যাপারে আমরা প্রধানমন্ত্রী ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এ ব্যাপারে অলিউর রহমান রুনু চৌধুরী বলেন, আমি জমিটি সরকারের কাছ থেকে লিজ নিয়েছি। এখানে আমি বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করবো। এতে এলাকার লোকজনের ক্ষতি হবে না বরং উপকারই হবে। আদালতের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের অনুমতি আছে, তারপরও আদালতের নির্দেশ হাতে পেলে কাজ বন্ধ করা হবে। নলছিটি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুলতান মাহমুদ বলেন, কুমারখালী গ্রামের বাসিন্দারা আমাকে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। আমি ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। রুনু চৌধুরীকে কাগজপত্র নিয়ে থানায় আসতে বলা হয়েছে। আমাদের কাছে আদালতের নির্দেশ আসা মাত্রই কাজ বন্ধ করতে বলা হবে। আতিকুর রহমান/এসএস/পিআর