দেশজুড়ে

মামলা করে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন মুক্তিযোদ্ধার পরিবার

দোকান পুড়িয়ে দেয়ায় মামলা করে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন শরীয়তপুরের এক মুক্তিযোদ্ধা পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে সদর উপজেলার বিনোদপুর ঢালীকান্দি গ্রামে। মুক্তিযোদ্ধার পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর সদর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের বিনোদপুর ঢালীকান্দি গ্রামে ২৪ এপ্রিল রাত ৪টার দিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত. নুরুল ইসলাম বেপারীর স্ত্রী আনোয়ারা বেগমের বসতবাড়িতে অবস্থিত একচালা টিনের তৈরি মুদি দোকানে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। গত ২৩ এপ্রিল দুপুরে বিনোদপুর ঢালীকান্দি গ্রামের বাবু বেপারী উক্ত দোকানে বাকিতে আরসি কোলা কিনতে আসে। দোকানদার বাকিতে আরসি কোলা না দিলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে চলে যায়। পরে ২৪ এপ্রিল রাত ৪টার দিকে বিনোদপুর ঢালীকান্দি গ্রামের আনোয়ারা বেগমের দোকান ঘর পেট্রল দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। নগদ অর্থ, একটি ফ্রিজ, একটি টিভিসহ দোকানে থাকা পণ্য পুড়ে যায়। এতে প্রায় ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়। এ ব্যাপারে গত ২৬ এপ্রিল আনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে মজিদ বেপারীর ছেলে বাবু বেপারী (২৫), মৃত. ইউনুস সরদারের ছেলে এনামুল সরদার (৪০), ফোরকান আকনের ছেলে আরিফ হোসেন আকন (২১), আলী আশরাফ বেপারীর ছেলে জালাল বেপারী (৩৮) ও মৃত. আবু আলেম ঢালীর ছেলে আলমাছ ঢালীকে (৪৫) আসামি করে পালং মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। আনোয়ারা বেগম মামলা করেও বিচার পাচ্ছেন না। এ ব্যাপারে স্থানীয় নুরুল হুদা বেপারী বলেন, তারা গ্রামে প্রভাবশালী লোক। তাদের কাছে গ্রামের সাধারণ মানুষ জিম্মি। এ ঘটনার একটি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।  আনোয়ারা বেগম বলেন, ২৪ এপ্রিল রাত ৪টার দিকে আমি ফজরের নামাজ পড়ার উদ্দেশ্যে ঘুম থেকে উঠি। অজু করতে বাইরে গিয়ে দেখতে পাই আমার দোকান আগুনে পুড়ছে। আমি আগুন দেখে চিৎকার দিলে আসামিরা আমাকে বলে এ বিষয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করবি না। মামলা করার চেষ্টা করবি না। তাহলে বাঁচবি না। আমাকে হুমকি দিয়ে পালিয়ে চলে যায়। আমি থানায় একটি মামলা দায়ের করি। কিন্তু থানায় মামলা করেও বিচার পাচ্ছি না। মামলা উঠানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিচ্ছে। এখন আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভূুগছি।এ ব্যাপারে পালং মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খলিলুর রহমান বলেন, আনোয়ারা বেগমের বসত বাড়িতে অবস্থিত এক চালা টিনের তৈরি মুদি দোকানে যারা আগুন দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আমরা তাদের আইনের আওতায় আনবো।ছগির হোসেন/এসএস/এমএস