দেশজুড়ে

সিসি ক্যামেরার আওতায় মানিকগঞ্জ

অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সিসি ক্যামেরার আওতায় আসছে পুরো মানিকগঞ্জ জেলা। এরই মধ্যে জেলার চারপাশের প্রবেশমুখ, ৭ থানাসহ ৯০টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশের উদ্যোগে সিসিটিভি বসানো হয়েছে। শিগগিরই সিসিটিভি বসবে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশের সিএনজি পাম্প, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ আরো কয়েকটি অপরাধপ্রবণ স্থানে। দেশে আলোচিত বহু ঘটনার রহস্য উন্মোচন ও অপরাধী সনাক্ত হয়েছে সিসিটিভির ফুটেজে। জননিরাপত্তায় এখন সিসিটিভি খুবই কার্যকরী। তাই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুরো জেলাকেই আধুনিক প্রযুক্তির এ ক্যামেরায় আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছেন মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার।জেলার চারদিকের প্রবেশ ও বাহির হওয়ার পথ, ৭ থানা, মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড, নয়াডিঙ্গী বাসস্ট্যান্ড, পাটুরিয়া ফেরিঘাটের টিকেট কাউন্টার, তরা মুন্নু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল গেট, শহরের স্বর্ণকার পট্টি, মহিলা কলেজ এলাকা, হরিরামপুরের ঝিটকা বাজারসহ ৯০টি অপরাধপ্রবণ পয়েন্ট সিসি ক্যামেরায় আওতায় এসেছে। বিভিন্ন বহুতল ভবন, বিপণী বিতান, ব্যাংক-বীমা অফিসসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানেও সিসি টিভি স্থাপনের তাগিদ দেয়া হচ্ছে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে।গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন হওয়ায় এরই মধ্যে সুফলও পেতে শুরু করেছেন জেলাবাসী। সম্প্রতি শহরের শহীদ রফিক সড়কে এক্সিম ব্যাংকের ভেতরে ডাকাতি চেষ্টার ঘটনা সিসিটিভিতে ধরা পড়ে। তাৎক্ষণিক পুলিশ ব্যাংকে প্রবেশ করলে ডাকাতরা পালিয়ে যায়। মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে সিসি ক্যামেরা কাজ করছে যানবাহন নিয়ন্ত্রণেও। ট্রাফিক ইন্সপেক্টর ফারুক বিশ্বাস জাগো নিউজকে জানান, সিসি ক্যামেরার কারণে তাদের কাজের গতি অনেক বেড়েছে। বাসস্ট্যান্ডের তিন পথের রাস্তা সিসি ক্যমেরায় আওতায় আসায় কোনো পথে কি হচ্ছে তা মনিটর করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। সিসি ক্যামেরার আওতায় আসায় দালালদের দৌরাত্ম্য কমেছে পাটুরিয়া ফেরি ঘাটের টিকেট কাউন্টারে। মহিলা কলেজের সামনের রাস্তায় সিসি ক্যামেরা বসায় কমেছে বখাটেতের আনাগোনা।স্থানীয়রা মনে করেন, জেলায় যত সিসিটিভির ব্যবহার বাড়বে অপরাধ প্রবণতা তত কমবে। কারণ অপরাধীদের মনে সব সময় ধরা পড়ার ভয় থাকবে। মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান জাগো নিউজকে জানান, তিনি যোগদানের পর থেকেই জেলাকে সিসিটিভির আওতায় আনার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। প্রথমে ১৩টি সিসি ক্যামেরা বসানো হয় বিভিন্ন স্থানে। ৬ মাসের মধ্যে জেলার ৭টি থানাও এর আওতায় চলে আসে। এখন ৯০টি পয়েন্টে সিসিটিভি রয়েছে।তিনি বলেন, থানাগুলোতে সিসিটিভি থাকায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি) ডিউটি অফিসারের রুম, হাজত খানাসহ থানায় কে প্রবেশ করছেন কে বের হচ্ছেন তা মনিটর করতে পারছেন। একই সঙ্গে তিনিও যে কোনো স্থান থেকে তার মোবাইল ফোন এবং ল্যাপটপের মাধ্যমে মনিটর করতে পারছেন সিসিটিভির আওতাধীন পুরো এলাকা। ব্যক্তিগত পর্যায়ে সিসি টিভির ব্যবহার আরও বাড়ানোর জন্যও জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে বলে জানালেন পুলিশ সুপার।এসএস/পিআর